, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিইউপির পশ্চিম ক্যাম্পাসে নতুন তিন ভবনের উদ্বোধন বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী বিদেশ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে চালু হলো নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা জমির কাগজে জালিয়াতির দিন শেষ, ডিজিটাল সার্ভে হলেই বন্ধ হবে প্রতারণা: মীর হেলাল বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার নতুন বার্তা, ৬ মাসে নেবে ২ লাখ কর্মী “ইয়াবার সঙ্গে মিলল পুলিশের লুট হওয়া গুলি” নাফ নদীতে ধাওয়া করে ফেলা বস্তা উদ্ধার, মিলল ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-মাদক দমনে সময় বেঁধে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

বিদেশ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে চালু হলো নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

  • প্রকাশের সময় : ১৯ ঘন্টা আগে
  • ২২ পড়া হয়েছে

বিদেশ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে চালু হলো নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

স্বাধীন খবর ঢাকা, ৩০ আগস্ট ২০২৬:

 

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সমন্বিত করতে ‘রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে এক অনুষ্ঠানে এ সিস্টেমের উদ্বোধন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও জাহাঙ্গীর হোসেন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান।
RDMS-এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া আরও বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে RDMS অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের জন্য RDMS ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সিস্টেমটির সমন্বয়ের কাজও চলছে।

ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখা কাজ করছে। আন্তঃসংস্থার এই সমন্বিত উদ্যোগ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় RDMS তৈরি করা হয়েছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে সহায়তা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
RDMS একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

এর মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ও সহজ হবে।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিত ব্যবস্থায় এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক সময় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতো।

নতুন সিস্টেমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই দ্রুত করার পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও সহজে অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া RDMS-এর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং রিয়েল-টাইমে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকবে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, RDMS চালুর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জনপ্রিয়

বিইউপির পশ্চিম ক্যাম্পাসে নতুন তিন ভবনের উদ্বোধন

বিদেশ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে চালু হলো নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

প্রকাশের সময় : ১৯ ঘন্টা আগে

বিদেশ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে চালু হলো নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা

স্বাধীন খবর ঢাকা, ৩০ আগস্ট ২০২৬:

 

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সমন্বিত করতে ‘রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে এক অনুষ্ঠানে এ সিস্টেমের উদ্বোধন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের সহযোগিতায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও জাহাঙ্গীর হোসেন এবং অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান।
RDMS-এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া আরও বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে RDMS অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের জন্য RDMS ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সিস্টেমটির সমন্বয়ের কাজও চলছে।

ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখা কাজ করছে। আন্তঃসংস্থার এই সমন্বিত উদ্যোগ মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় RDMS তৈরি করা হয়েছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে সহায়তা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
RDMS একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

এর মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ও সহজ হবে।
বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিত ব্যবস্থায় এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক সময় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতো।

নতুন সিস্টেমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যাবে। জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই দ্রুত করার পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও সহজে অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া RDMS-এর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং রিয়েল-টাইমে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ থাকবে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, RDMS চালুর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং বিদেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।