, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঋণ শোধের পরও নিলাম, বাদুড়তলায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বাবুল-সানির ভয়ংকর সিন্ডিকেট তিন দিন ধরে ঘর তালাবদ্ধ, রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার রেমিট্যান্সের অর্থ এসএমইতে বিনিয়োগের পক্ষে তরুণদের যুক্তিতর্ক চাঁদাবাজির জেরে প্রবাসী হত্যা: কক্সবাজারে মামলার ‘১ নম্বর আসামি’ গ্রেপ্তার ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪৮২ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ১৩ হাজার ৯১৪ পিস ১ কোটি ২১ লাখের ডাকাতি: গ্যারেজে মিলল সেই পালসার কাচের জারে কোটি টাকার রহস্য, দিনাজপুরে মিলল ৫.৭ কেজি সাপের বিষ-আটক  বন্দর ও করিডোর নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে: ড. ইউনূস খুনিরা মহাসুখে, খাচ্ছে, ঘুরছে, সেলফি তুলছে! পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ

ঋণ শোধের পরও নিলাম, বাদুড়তলায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বাবুল-সানির ভয়ংকর সিন্ডিকেট

  • প্রকাশের সময় : ৬ মিনিট আগে
  • ২ পড়া হয়েছে

ঋণ শোধের পরও নিলাম, বাদুড়তলায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বাবুল-সানির ভয়ংকর সিন্ডিকেট

স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম: নগরের গুরুত্বপূর্ণ বাদুড়তলা এলাকায় প্রায় ১০ কাঠা জমি মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রির ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, যে বকেয়া ঋণের সূত্র ধরে সম্পত্তিটি নিলামে তোলা হয়েছিল, সেই অর্থ ২০১২ সালেই ঋণগ্রহীতার গ্যারান্টার আব্দুল মাবুদ পরিশোধ করেছিলেন। এরপরও কীভাবে ওই সম্পত্তি নিলামে গেল, তা নিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমিটির মালিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি পরিবারের কাউকেই নিলাম বা দখল হস্তান্তরের বিষয়ে যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
তাঁদের প্রশ্ন, ঋণের অর্থ যদি ২০১২ সালেই পরিশোধ হয়ে থাকে, তাহলে একই ঋণের সূত্রে পরবর্তী সময়ে সম্পত্তিটি নিলামে ওঠার কারণ কী? এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

২০ লাখ টাকায় ১০ কাঠা জমি
বাদুড়তলার মতো নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১০ কাঠা জমি মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিলাম হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জমিটির মূল্য নির্ধারণ কীভাবে করা হয়েছিল এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
নিলামের বাইরের জমি দখলের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, আদালতের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি হওয়া জমির দখল বুঝে নেওয়ার পর সেলিম চৌধুরী বাবুল ও সানি পক্ষের লোকজন বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়ে এলাকায় গিয়ে নিলামের আওতাভুক্ত নয়—এমন জমিও দখলের চেষ্টা করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ৪০২ নম্বর দাগের যে অংশ নিলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেটিও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রবাসী পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি প্রবাসী পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। পরিবারের এক শিশু সদস্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সেলিম চৌধুরী বাবুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তদন্ত চান ভুক্তভোগীরা
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ব্যাংকের নিলামসংক্রান্ত নথি, ঋণ পরিশোধের কাগজপত্র, আদালতের আদেশ এবং জমির দাগভিত্তিক মালিকানা যাচাই করা হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

তাঁদের প্রশ্ন—ঋণ পরিশোধের পরও নিলাম হলো কীভাবে, প্রকৃত মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং নিলামের বাইরে থাকা জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?

এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কোনো নিরপরাধ পরিবার যেন হয়রানি বা জমি দখলের শিকার না হয়—এমন দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঋণ শোধের পরও নিলাম, বাদুড়তলায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বাবুল-সানির ভয়ংকর সিন্ডিকেট

ঋণ শোধের পরও নিলাম, বাদুড়তলায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বাবুল-সানির ভয়ংকর সিন্ডিকেট

প্রকাশের সময় : ৬ মিনিট আগে

ঋণ শোধের পরও নিলাম, বাদুড়তলায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বাবুল-সানির ভয়ংকর সিন্ডিকেট

স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম: নগরের গুরুত্বপূর্ণ বাদুড়তলা এলাকায় প্রায় ১০ কাঠা জমি মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রির ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, যে বকেয়া ঋণের সূত্র ধরে সম্পত্তিটি নিলামে তোলা হয়েছিল, সেই অর্থ ২০১২ সালেই ঋণগ্রহীতার গ্যারান্টার আব্দুল মাবুদ পরিশোধ করেছিলেন। এরপরও কীভাবে ওই সম্পত্তি নিলামে গেল, তা নিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমিটির মালিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি পরিবারের কাউকেই নিলাম বা দখল হস্তান্তরের বিষয়ে যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
তাঁদের প্রশ্ন, ঋণের অর্থ যদি ২০১২ সালেই পরিশোধ হয়ে থাকে, তাহলে একই ঋণের সূত্রে পরবর্তী সময়ে সম্পত্তিটি নিলামে ওঠার কারণ কী? এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

২০ লাখ টাকায় ১০ কাঠা জমি
বাদুড়তলার মতো নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১০ কাঠা জমি মাত্র ২০ লাখ টাকায় নিলাম হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জমিটির মূল্য নির্ধারণ কীভাবে করা হয়েছিল এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
নিলামের বাইরের জমি দখলের অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, আদালতের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি হওয়া জমির দখল বুঝে নেওয়ার পর সেলিম চৌধুরী বাবুল ও সানি পক্ষের লোকজন বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়ে এলাকায় গিয়ে নিলামের আওতাভুক্ত নয়—এমন জমিও দখলের চেষ্টা করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ৪০২ নম্বর দাগের যে অংশ নিলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেটিও জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।

জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রবাসী পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি প্রবাসী পরিবারকে হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। পরিবারের এক শিশু সদস্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সেলিম চৌধুরী বাবুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তদন্ত চান ভুক্তভোগীরা
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ব্যাংকের নিলামসংক্রান্ত নথি, ঋণ পরিশোধের কাগজপত্র, আদালতের আদেশ এবং জমির দাগভিত্তিক মালিকানা যাচাই করা হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

তাঁদের প্রশ্ন—ঋণ পরিশোধের পরও নিলাম হলো কীভাবে, প্রকৃত মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং নিলামের বাইরে থাকা জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু?

এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং কোনো নিরপরাধ পরিবার যেন হয়রানি বা জমি দখলের শিকার না হয়—এমন দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।