সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি
-
-
প্রকাশের সময় :
৯ ঘন্টা আগে
-
৭
পড়া হয়েছে

সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি
স্বাধীন খবর ঢাকা, ২৫ আগস্ট:
বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটির বাংলাদেশে আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থী, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চায় তাঁর সংস্থা। সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান তিনি। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির সহযোগিতার প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড় ধস প্রতিরোধ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তবে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না সরকার।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধের বিষয়টিও উঠে আসে। ইউএনডিপির প্রতিনিধি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে।
এসব প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউএনডিপি। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ইউএনডিপি লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনটি পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনটি প্রণয়নের আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, বিদেশি মিশন, সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেক সময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র যথাযথভাবে উঠে আসে না। বাংলাদেশকে উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপির প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।