আবারও বেপরোয়া জুলাই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
প্রকাশের সময় :
০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫৪
পড়া হয়েছে
আবারও বেপরোয়া জুলাই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
স্বাধীন খবর নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী খান বাহাদুর আমান আলী পরিবারের দোকান, বসতঘরসহ স্থাবর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এস এম আহমদ হোছাইনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আহমদ হোছাইনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল নগরের লালদীঘির পাড়সংলগ্ন আন্দরকিল্লা-টেরিবাজার প্রধান সড়কের পাশে থাকা ওই সম্পত্তিতে গিয়ে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় দোকান ও স্থাপনায় প্রবেশ করে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ তাঁদের।
খান বাহাদুর আমান আলী পরিবারের বংশধর মহিউদ্দিন আব্দুল হাইয়ের সন্তান তারিন মহিউদ্দিন আজিম বলেন, হঠাৎ করে একদল লোক তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
তারিন বলেন, ‘আমাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে হঠাৎ করে ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে দখলের চেষ্টা চালানো হয়। আমি প্রতিবাদ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু দখলের চেষ্টা নয়, দোকান ও স্থাপনায় লুটপাটও করা হয়েছে। পরে আমরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।’
তাঁর দাবি, স্থানীয় লোকজন কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
তারিন মহিউদ্দিন আজিম বলেন, ‘স্থানীয় মানুষজন কয়েকজনকে ধরে ফেলেন। পরে পুলিশ এসে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়। আমরা চাই, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
আগেও দখলের চেষ্টার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের কেয়ারটেকার শিউলি আক্তারের অভিযোগ, একই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এর আগেও করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের মে মাসে তিন দফায় সম্পত্তিটি দখলের চেষ্টা করা হয়। ওই সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
শিউলি আক্তার বলেন, ‘২০২৪ সালের মে মাসে এর আগেও তিনবার এই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এমনকি পুলিশ পরিচয়ে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে আমরা অভিযোগ করেছিলাম। পুলিশ একবার তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল।
এরপর দীর্ঘদিন কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রায় দুই বছর পর আবারও একইভাবে দখলের চেষ্টা করা হলো।
দেশে কি আইন নেই?’
একাধিক মামলার তথ্যের দাবি
এদিকে এস এম আহমদ হোছাইনকে ঘিরে একাধিক মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে।
তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আরিফ মঈনুদ্দিনদের আজিম সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় করা একটি মামলায় আহমদ হোছাইনকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, ব্যবসায়িক প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগের কোনোটিতেই আহমদ হোছাইনকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য মেলেনি
সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে থানার ওসি কক্ষে কয়েকজনকে দেখা গেছে। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস এম আহমদ হোছাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।