ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসার নামে নানা অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা
প্রকাশের সময় :
২০ ঘন্টা আগে
১৭
পড়া হয়েছে
ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসার নামে নানা অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা
স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশের মির্জাপুলে ডেল্টা হাসপাতালকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মোটা অঙ্কের বিল, রোগী সংগ্রহে দালালচক্র, ওষুধের অতিরিক্ত দাম, ভবন ও লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং হাসপাতালের সামনে অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদেরও গুরুতর রোগের আশঙ্কা দেখিয়ে একের পর এক পরীক্ষা করানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইসিইউ বা সিসিইউতে নেওয়ার কথা বলে স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরীক্ষা আর প্যাকেজে বাড়ছে বিল
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্যাকেজের নামে তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয়তার তুলনায় বেশি পরীক্ষা করানোর অভিযোগও রয়েছে।
একাধিক স্বজনের দাবি, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসা ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায়। বিলের বিভিন্ন খাত নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সব সময় সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ
ডেল্টা হাসপাতালকে ঘিরে দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নগরের বাইরে ও বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীদের নানা কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগী ভর্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার বিপরীতে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে রোগী সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
হাসপাতালের পাশের ফার্মেসিতেও অভিযোগ
হাসপাতালের আশপাশের কয়েকটি ফার্মেসিতে ওষুধের মূল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের অভিযোগ, কিছু ওষুধ নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে এ অভিযোগ নিশ্চিত করতে ওষুধের প্যাকেটের এমআরপি, বিক্রয় রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি মূল্যতালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।
ভবন ও লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন
হাসপাতালটির ভবন ব্যবহার এবং লাইসেন্স নবায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, আবাসিক ভবনে হাসপাতাল পরিচালনা এবং অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
হাসপাতালের সামনে যানজট
২০১৬ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা ডেল্টা হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের।
তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের সামনে ও আশপাশের সড়কে গাড়ি রাখার কারণে পাঁচলাইশ মোড় থেকে মির্জাপুল পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়। ব্যস্ত সড়কে এর প্রভাব পড়ে নিয়মিত।
সম্প্রতি যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযানের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পার্কিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও অভিযোগ
হাসপাতালের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন বর্জ্য যথাযথ নিয়মে ব্যবস্থাপনা না করে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার মধ্যেই কার্যক্রম চলছে।
তদন্ত ও নজরদারির দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।
হাসপাতালের লাইসেন্স ও অনুমোদন, চিকিৎসক ও জনবল, রোগীর বিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের মূল্য, চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পার্কিং—প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে।
রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, চিকিৎসাসেবার নামে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।