, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সীমান্তে এক দিনে ৮১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের সহযোগিতা চান বাংলাদেশ নেপালের বন্যা-ভূমিধসে বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা, সহায়তার আশ্বাস খলিলুর রহমানের মানুষের ভিড়ে মানুষ কোথায়?মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে? সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল, তিন দিন ভাসছিল বোট; ১৬ জেলেকে উদ্ধার নৌবাহিনীর কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদের দাবি ঋণ শোধের পরও নিলাম, বাদুড়তলায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে বাবুল-সানির ভয়ংকর সিন্ডিকেট তিন দিন ধরে ঘর তালাবদ্ধ, রংপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার রেমিট্যান্সের অর্থ এসএমইতে বিনিয়োগের পক্ষে তরুণদের যুক্তিতর্ক

মানুষের ভিড়ে মানুষ কোথায়?মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে?

  • প্রকাশের সময় : ১৪ ঘন্টা আগে
  • ২৬ পড়া হয়েছে

মানুষের ভিড়ে মানুষ কোথায়?মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে?

স্বাধীন খবর:

মানুষ সামাজিক জীব। একে অন্যের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এসবই ছিল আমাদের সামাজিক জীবনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। মানুষ বাড়ছে, সম্পর্ক বাড়ছে, যোগাযোগের মাধ্যম বাড়ছে; অথচ কোথাও যেন কমে যাচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের মমতা।
আজ কারও সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার বদলে অনেকেই ঈর্ষান্বিত হন। কেউ ভালো কিছু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে তার সাফল্যের পেছনে নেতিবাচক কারণ খোঁজার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যের ভালো থাকা যেন অনেক সময় নিজের ব্যর্থতার সঙ্গে তুলনা করার একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ওপর। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন অনেকেই অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেও দ্বিধা করেন। কারণ ভালো করতে গিয়ে যদি উল্টো সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, তাহলে একসময় মানুষ ভালো কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।
আর সেখানেই তৈরি হয় বড় সংকট—মানুষ তখন অন্যায় দেখে নীরব থাকে, বিপদে পড়া মানুষকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, সত্য কথা বলার সাহস হারায়। ধীরে ধীরে সমাজে মানুষের উপস্থিতি থাকে, কিন্তু মানবিকতার উপস্থিতি কমে যায়।
ভালো মানুষ শুধু ব্যক্তিগত গুণে তৈরি হন না; তাঁকে গড়ে তুলতে প্রয়োজন একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ। যেখানে সত্য বলার মূল্য আছে, অন্যায়ের প্রতিবাদকে সম্মান করা হয় এবং মানুষের উপকার করাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয় না।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, মানুষের পরিচয় শুধু তার অর্থ, ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা সামাজিক অবস্থানে নয়। একজন মানুষ কেমন—তার সবচেয়ে বড় পরিচয় পাওয়া যায় সে অন্য মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, দুর্বল মানুষের পাশে কতটা দাঁড়ায় এবং অন্যের সম্মান কতটা রক্ষা করে, তার মধ্য দিয়ে।
তাই সমাজ বদলের কথা বলার আগে আমাদের নিজেদের দিকে তাকানো জরুরি। অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো, ভুল হলে ক্ষমা করা এবং অকারণে কাউকে ছোট না করা—এসব ছোট ছোট মানবিক আচরণই একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
কারণ সমাজ আসলে অন্য কেউ বদলাবে না। সমাজ বদলাবে আমরা বদলালে।
কখনো কখনো খুব ইচ্ছে করে, মসজিদের আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে বাবার কবরে গিয়ে কিছুক্ষণ বসি। নীরবে তাঁর সঙ্গে কথা বলি। জানি, বাবা আর উত্তর দেবেন না। তবুও মনে হয়, কিছু কথা তাঁকে বলার আছে।
কবরের পাশে বসলে জীবনের অনেক হিসাবই যেন নতুন করে মনে পড়ে। বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি আছে। তাঁর ভালোবাসা আছে। আছে তাঁর শেখানো কথা। আর আছে এমন এক শূন্যতা, যা সময় পেরিয়ে গেলেও পূরণ হয় না।
কখনো কবরের পাশে একটু হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়—জীবন কত অল্প সময়ের। এত অহংকার, এত হিংসা, এত প্রতিযোগিতা, এত অভিমান—শেষ পর্যন্ত সবকিছুই তো থেমে যায়।
থেকে যায় শুধু মানুষের ভালোবাসা, মানুষের জন্য করা ভালো কাজ আর মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া স্মৃতি।
তাই বেঁচে থাকতে মানুষকে ভালোবাসা দরকার। কারও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো দরকার। অন্যের সাফল্যে ঈর্ষা নয়, আনন্দ প্রকাশ করা দরকার। আর কারও সম্মান নিয়ে কথা বলার আগে একবার ভাবা দরকার—আমার কথাটি যদি আমার নিজের ক্ষেত্রে বলা হতো, কেমন লাগত?
হয়তো এভাবেই আমরা আবার মানুষের ভিড়ে মানুষ হয়ে উঠতে পারি।
কারণ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় পরিচয়—আমরা কতটা সফল ছিলাম, তা নয়; আমরা কতটা মানুষ ছিলাম।

জনপ্রিয়

সীমান্তে এক দিনে ৮১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

মানুষের ভিড়ে মানুষ কোথায়?মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে?

প্রকাশের সময় : ১৪ ঘন্টা আগে

মানুষের ভিড়ে মানুষ কোথায়?মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে?

স্বাধীন খবর:

মানুষ সামাজিক জীব। একে অন্যের সুখে আনন্দিত হওয়া, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এসবই ছিল আমাদের সামাজিক জীবনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। মানুষ বাড়ছে, সম্পর্ক বাড়ছে, যোগাযোগের মাধ্যম বাড়ছে; অথচ কোথাও যেন কমে যাচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের মমতা।
আজ কারও সাফল্যে আনন্দিত হওয়ার বদলে অনেকেই ঈর্ষান্বিত হন। কেউ ভালো কিছু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে তার সাফল্যের পেছনে নেতিবাচক কারণ খোঁজার প্রবণতা দেখা যায়। অন্যের ভালো থাকা যেন অনেক সময় নিজের ব্যর্থতার সঙ্গে তুলনা করার একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি সুন্দর সমাজ গড়ে ওঠে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ওপর। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন অনেকেই অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেও দ্বিধা করেন। কারণ ভালো করতে গিয়ে যদি উল্টো সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, তাহলে একসময় মানুষ ভালো কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।
আর সেখানেই তৈরি হয় বড় সংকট—মানুষ তখন অন্যায় দেখে নীরব থাকে, বিপদে পড়া মানুষকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, সত্য কথা বলার সাহস হারায়। ধীরে ধীরে সমাজে মানুষের উপস্থিতি থাকে, কিন্তু মানবিকতার উপস্থিতি কমে যায়।
ভালো মানুষ শুধু ব্যক্তিগত গুণে তৈরি হন না; তাঁকে গড়ে তুলতে প্রয়োজন একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ। যেখানে সত্য বলার মূল্য আছে, অন্যায়ের প্রতিবাদকে সম্মান করা হয় এবং মানুষের উপকার করাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয় না।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, মানুষের পরিচয় শুধু তার অর্থ, ক্ষমতা, পদ-পদবি কিংবা সামাজিক অবস্থানে নয়। একজন মানুষ কেমন—তার সবচেয়ে বড় পরিচয় পাওয়া যায় সে অন্য মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, দুর্বল মানুষের পাশে কতটা দাঁড়ায় এবং অন্যের সম্মান কতটা রক্ষা করে, তার মধ্য দিয়ে।
তাই সমাজ বদলের কথা বলার আগে আমাদের নিজেদের দিকে তাকানো জরুরি। অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো, ভুল হলে ক্ষমা করা এবং অকারণে কাউকে ছোট না করা—এসব ছোট ছোট মানবিক আচরণই একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
কারণ সমাজ আসলে অন্য কেউ বদলাবে না। সমাজ বদলাবে আমরা বদলালে।
কখনো কখনো খুব ইচ্ছে করে, মসজিদের আজানের ধ্বনি শুনে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে বাবার কবরে গিয়ে কিছুক্ষণ বসি। নীরবে তাঁর সঙ্গে কথা বলি। জানি, বাবা আর উত্তর দেবেন না। তবুও মনে হয়, কিছু কথা তাঁকে বলার আছে।
কবরের পাশে বসলে জীবনের অনেক হিসাবই যেন নতুন করে মনে পড়ে। বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি আছে। তাঁর ভালোবাসা আছে। আছে তাঁর শেখানো কথা। আর আছে এমন এক শূন্যতা, যা সময় পেরিয়ে গেলেও পূরণ হয় না।
কখনো কবরের পাশে একটু হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়—জীবন কত অল্প সময়ের। এত অহংকার, এত হিংসা, এত প্রতিযোগিতা, এত অভিমান—শেষ পর্যন্ত সবকিছুই তো থেমে যায়।
থেকে যায় শুধু মানুষের ভালোবাসা, মানুষের জন্য করা ভালো কাজ আর মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া স্মৃতি।
তাই বেঁচে থাকতে মানুষকে ভালোবাসা দরকার। কারও দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো দরকার। অন্যের সাফল্যে ঈর্ষা নয়, আনন্দ প্রকাশ করা দরকার। আর কারও সম্মান নিয়ে কথা বলার আগে একবার ভাবা দরকার—আমার কথাটি যদি আমার নিজের ক্ষেত্রে বলা হতো, কেমন লাগত?
হয়তো এভাবেই আমরা আবার মানুষের ভিড়ে মানুষ হয়ে উঠতে পারি।
কারণ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় পরিচয়—আমরা কতটা সফল ছিলাম, তা নয়; আমরা কতটা মানুষ ছিলাম।