, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হাটহাজারীতে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা, নিহত ২ সেনাসদস্য বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়া কে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আগস্টে ৩৪৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে র‌্যালি-সেমিনার পাহাড় কাটার পর প্লট বাণিজ্য, সরকারি জমি দখল—বায়েজিদে আলোচনায় ‘সোর্স লিটন’ সুন্দরবন-বাঘ-হাতি: পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ-ভারতের বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্টে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে কোটি কোটি টাকার লেনদেন ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসার নামে নানা অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা কাগজবিহীন সংসদের পথে বাংলাদেশ, আসছে ই-পার্লামেন্ট চট্টগ্রাম বিআরটিএতে ‘ঘুষের রাজত্ব’! তৌহিদুলকে ঘিরে পাহাড়সম অভিযোগ

পাহাড় কাটার পর প্লট বাণিজ্য, সরকারি জমি দখল—বায়েজিদে আলোচনায় ‘সোর্স লিটন’

  • প্রকাশের সময় : ১৯ ঘন্টা আগে
  • ২০ পড়া হয়েছে

পাহাড় কেটে প্লট, সরকারি জমি দখল, মাদক ও চাঁদাবাজি বায়েজিদে ‘সোর্স লিটনের’ বিরুদ্ধে ‘রামরাজত্বের’ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

পাহাড় কেটে প্লট, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও জুয়ার আসর—অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক মো. লিটন ওরফে ‘সোর্স লিটন’।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর ধরে বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছেন লিটন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, পাহাড় কাটা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কেটে জমি সমতল করে পরে সেখানে প্লট তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রটি। সরকারি জায়গা দখল করে বাণিজ্য, শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা থেকেও বিপুল অর্থ আসে বলে দাবি স্থানীয়দের।

‘দিন-রাত চলে পাহাড় কাটা’
বায়েজিদের আরেফিন নগর, মুক্তিযোদ্ধা কলোনি, ডেবার পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও চলে পাহাড় কাটার কাজ। কেটে ফেলা পাহাড়ের মাটি সরিয়ে জায়গা সমতল করে তা প্লট হিসেবে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বললে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। ফলে অনেকেই পরিচয় প্রকাশ করে অভিযোগ করতে চান না।

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা শুধু পরিবেশ ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ভূমি দখল ও অবৈধ প্লট বাণিজ্য। এতে একদিকে পাহাড়ের স্বাভাবিক ভূমিরূপ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি।

আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়া থেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়?
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের স্থানীয় নেতা মহিউদ্দিন-দিদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন লিটন। ওই সময় বায়েজিদের চন্দ্রনগর, চৌধুরী নগর, গ্রিনভ্যালি, নীলাচল, ডেবার পাড়, বলবিথী, জেড আবাসিক, গুলশান আবাসিক, আরেফিন নগর ও মুক্তিযোদ্ধা কলোনি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যুবলীগ নেতা মেহেদী হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই লিটনের অপরাধজগতে সক্রিয়তা বাড়তে থাকে। পরে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আসে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, যুবলীগের পরিচয় ছেড়ে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা লিটনকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দখল থেকে প্লট বাণিজ্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল করে পরে তা প্লট আকারে বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বায়েজিদে। কোথাও পাহাড় কেটে জায়গা তৈরি করা হচ্ছে, কোথাও আবার দখল করা জমিতে সীমানা দেয়াল বা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি নেটওয়ার্ক কাজ করে। ফলে শুধু একজন বা দুজনকে আইনের আওতায় এনে সমস্যার সমাধান হবে না; পুরো চক্রের অর্থের উৎস, জমির মালিকানা ও লেনদেন তদন্ত করা প্রয়োজন।

মাদক ও জুয়ার আসর নিয়েও অভিযোগ
লিটনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর চললেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারেন না।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের নথিতে একাধিক মামলা
বায়েজিদ বোস্তামী থানার পুলিশ জানিয়েছে, মো. লিটন ওরফে সোর্স লিটনের বিরুদ্ধে হত্যা ও পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “লিটনের বিরুদ্ধে হত্যা ও পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। যখন যে অপরাধ করেছে, সেই অপরাধে মামলা হয়েছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

পুলিশের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—এতগুলো অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও কীভাবে এলাকায় তাঁর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে? কারা তাঁকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

বিএনপির নেতাদের অস্বীকার
লিটনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সখ্য এবং তাঁকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, লিটনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

‘অভিযোগগুলো মিথ্যা’, দাবি লিটনের
অভিযোগের বিষয়ে মো. লিটন ওরফে সোর্স লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

লিটন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগগুলো যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর প্রকৃতি কী এবং এসব মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি কতটুকু?

বায়েজিদে পাহাড় কাটা, সরকারি জমি দখল, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত—তা খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভূমি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

জনপ্রিয়

হাটহাজারীতে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা, নিহত ২ সেনাসদস্য

পাহাড় কাটার পর প্লট বাণিজ্য, সরকারি জমি দখল—বায়েজিদে আলোচনায় ‘সোর্স লিটন’

প্রকাশের সময় : ১৯ ঘন্টা আগে

পাহাড় কেটে প্লট, সরকারি জমি দখল, মাদক ও চাঁদাবাজি বায়েজিদে ‘সোর্স লিটনের’ বিরুদ্ধে ‘রামরাজত্বের’ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

পাহাড় কেটে প্লট, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও জুয়ার আসর—অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক মো. লিটন ওরফে ‘সোর্স লিটন’।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর ধরে বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছেন লিটন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, পাহাড় কাটা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কেটে জমি সমতল করে পরে সেখানে প্লট তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রটি। সরকারি জায়গা দখল করে বাণিজ্য, শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা থেকেও বিপুল অর্থ আসে বলে দাবি স্থানীয়দের।

‘দিন-রাত চলে পাহাড় কাটা’
বায়েজিদের আরেফিন নগর, মুক্তিযোদ্ধা কলোনি, ডেবার পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও চলে পাহাড় কাটার কাজ। কেটে ফেলা পাহাড়ের মাটি সরিয়ে জায়গা সমতল করে তা প্লট হিসেবে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বললে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। ফলে অনেকেই পরিচয় প্রকাশ করে অভিযোগ করতে চান না।

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা শুধু পরিবেশ ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ভূমি দখল ও অবৈধ প্লট বাণিজ্য। এতে একদিকে পাহাড়ের স্বাভাবিক ভূমিরূপ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি।

আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়া থেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়?
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের স্থানীয় নেতা মহিউদ্দিন-দিদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন লিটন। ওই সময় বায়েজিদের চন্দ্রনগর, চৌধুরী নগর, গ্রিনভ্যালি, নীলাচল, ডেবার পাড়, বলবিথী, জেড আবাসিক, গুলশান আবাসিক, আরেফিন নগর ও মুক্তিযোদ্ধা কলোনি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যুবলীগ নেতা মেহেদী হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই লিটনের অপরাধজগতে সক্রিয়তা বাড়তে থাকে। পরে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আসে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, যুবলীগের পরিচয় ছেড়ে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা লিটনকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দখল থেকে প্লট বাণিজ্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল করে পরে তা প্লট আকারে বিক্রির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বায়েজিদে। কোথাও পাহাড় কেটে জায়গা তৈরি করা হচ্ছে, কোথাও আবার দখল করা জমিতে সীমানা দেয়াল বা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি নেটওয়ার্ক কাজ করে। ফলে শুধু একজন বা দুজনকে আইনের আওতায় এনে সমস্যার সমাধান হবে না; পুরো চক্রের অর্থের উৎস, জমির মালিকানা ও লেনদেন তদন্ত করা প্রয়োজন।

মাদক ও জুয়ার আসর নিয়েও অভিযোগ
লিটনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর চললেও প্রভাবশালী চক্রের কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারেন না।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পুলিশের নথিতে একাধিক মামলা
বায়েজিদ বোস্তামী থানার পুলিশ জানিয়েছে, মো. লিটন ওরফে সোর্স লিটনের বিরুদ্ধে হত্যা ও পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “লিটনের বিরুদ্ধে হত্যা ও পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। যখন যে অপরাধ করেছে, সেই অপরাধে মামলা হয়েছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

পুলিশের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—এতগুলো অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও কীভাবে এলাকায় তাঁর প্রভাব অব্যাহত রয়েছে? কারা তাঁকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

বিএনপির নেতাদের অস্বীকার
লিটনের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সখ্য এবং তাঁকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, লিটনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

‘অভিযোগগুলো মিথ্যা’, দাবি লিটনের
অভিযোগের বিষয়ে মো. লিটন ওরফে সোর্স লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

লিটন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা। আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগগুলো যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর প্রকৃতি কী এবং এসব মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি কতটুকু?

বায়েজিদে পাহাড় কাটা, সরকারি জমি দখল, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত—তা খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভূমি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বিত তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।