, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চীনে প্রশিক্ষণে যাচ্ছে NITER-এর ৮ শিক্ষার্থী, বিদায় সংবর্ধনা দিল BCCCI সাইবার বুলিং ঠেকাতে আইন, আইআরআইয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক চেয়ার বদলেছে, এবার কি বদলাবে বিআরটিএ? সামনে শফিকুজ্জামান ভূঞার কঠিন পরীক্ষা দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত রাবিপ্রবি, আলোচনায় সাবেক ভিসি আতিয়ারের ভূমিকা আশুলিয়ায় দম্পতি ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ হাটহাজারীতে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনা, নিহত ২ সেনাসদস্য বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বাড়াতে ইন্দোনেশিয়া কে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আগস্টে ৩৪৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে র‌্যালি-সেমিনার পাহাড় কাটার পর প্লট বাণিজ্য, সরকারি জমি দখল—বায়েজিদে আলোচনায় ‘সোর্স লিটন’

চেয়ার বদলেছে, এবার কি বদলাবে বিআরটিএ? সামনে শফিকুজ্জামান ভূঞার কঠিন পরীক্ষা

  • প্রকাশের সময় : ১৬ ঘন্টা আগে
  • ১৭ পড়া হয়েছে

চেয়ার বদলেছে, এবার কি বদলাবে বিআরটিএ? সামনে শফিকুজ্জামান ভূঞার কঠিন পরীক্ষা

স্বাধীন খবর নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নতুন পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শফিকুজ্জামান ভূঞা। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিভাগীয় বিআরটিএ কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিআরটিএ কার্যালয়ের সেবা ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের দালালনির্ভরতার অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেবাপ্রত্যাশীদের বড় প্রশ্ন—নতুন পরিচালক কি সত্যিই দালালনির্ভরতার সংস্কৃতি ভেঙে সরাসরি ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন?

সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি অর্থের অভিযোগ
চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস, রুট পারমিটসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর অভিযোগ নতুন নয়।

২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ, দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেবাপ্রত্যাশীদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সরকারি ফি দেওয়ার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের একটি অংশ নিয়ম-কানুন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় দালালের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। আর এই সুযোগেই একটি অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা তৈরি হয়।

দালাল নিয়ন্ত্রণে অভিযানও হয়েছে
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালচক্রের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এক অভিযানে ৩২ জনকে আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২১ জনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে কারাদণ্ড এবং ২০ জনকে জরিমানা করা হয়। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।

এ ধরনের অভিযান সাময়িকভাবে দালালদের তৎপরতা কমালেও প্রশ্ন থেকে যায়—অভিযান শেষ হওয়ার পর একই পরিবেশে তারা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে কি না।
শুধু অভিযান নয়, দরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে শুধু অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। কোন সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে, কত টাকা সরকারি ফি, কতদিনে সেবা পাওয়ার কথা এবং আবেদনের প্রতিটি ধাপ কোথায় সম্পন্ন হবে—এসব তথ্য সেবাপ্রত্যাশীর কাছে সহজ ও দৃশ্যমান করতে হবে।
ডিজিটাল আবেদন ও অনলাইন পেমেন্টের সুযোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কোনো সেবার ক্ষেত্রে মানুষের সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। এই জায়গাগুলোতেই মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তাই নতুন পরিচালকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রত্যাশী ও দালালের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের জায়গাগুলো বন্ধ করা।

শফিকুজ্জামান ভূঞার জন্য নতুন দায়িত্ব কতটা কঠিন?
চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। বিপুলসংখ্যক যানবাহন, পরিবহন ব্যবসা ও চালকের কারণে এ অঞ্চলে বিআরটিএর ওপর সেবার চাপও বেশি।

শফিকুজ্জামান ভূঞা এর আগে চট্টগ্রামেই বিআরটিএর উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অতীতে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে গণপরিবহনের ভাড়া ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ফলে নতুন দায়িত্বে এসে তাঁর সামনে একদিকে রয়েছে কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার কাজ, অন্যদিকে রয়েছে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ।

নজর থাকবে কয়েকটি বিষয়ে
নতুন পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রাম বিআরটিএতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর থাকবে—
১. দালালমুক্ত সেবা: কার্যালয়ের ভেতর ও আশপাশে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২. সরকারি ফি বনাম অতিরিক্ত অর্থ: সেবাপ্রত্যাশীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ কীভাবে মোকাবিলা করা হয়।
৩. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি: কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

৪. সেবার সময়সীমা: লাইসেন্স, ফিটনেস, নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হচ্ছে কি না।
৫. অভিযোগের প্রতিকার: সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলে সেটির বাস্তব সমাধান কতটা দ্রুত হয়।
৬. দালালদের বিকল্প তৈরি: সেবাপ্রত্যাশী যেন নিজের কাজ নিজেই সহজে করতে পারেন, সে ব্যবস্থা কতটা কার্যকর করা হয়।

‘দালাল ছাড়া কাজ হয় না’—এই ধারণা বদলানোর পরীক্ষা
বিআরটিএর মতো একটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে সেবাটি কতটা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তার ওপর।

দালালকে কেন্দ্র করে যদি কোনো সেবা পাওয়ার ধারণা তৈরি হয়, তাহলে শুধু দালাল ধরে জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। কোথায় সিস্টেমের দুর্বলতা রয়েছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি, কোথায় দীর্ঘসূত্রতা এবং কোথায় অভ্যন্তরীণ অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এসব চিহ্নিত করাও জরুরি।

নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞার জন্য তাই চ্যালেঞ্জ শুধু একটি দপ্তর পরিচালনা নয়; বরং চট্টগ্রাম বিআরটিএকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘দালালনির্ভর কার্যালয়’ নয়, সরাসরি নাগরিক সেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

এখন দেখার বিষয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কতটা দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারেন। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা—অভিযান হবে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি হবে ব্যবস্থার সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।

 

জনপ্রিয়

চীনে প্রশিক্ষণে যাচ্ছে NITER-এর ৮ শিক্ষার্থী, বিদায় সংবর্ধনা দিল BCCCI

চেয়ার বদলেছে, এবার কি বদলাবে বিআরটিএ? সামনে শফিকুজ্জামান ভূঞার কঠিন পরীক্ষা

প্রকাশের সময় : ১৬ ঘন্টা আগে

চেয়ার বদলেছে, এবার কি বদলাবে বিআরটিএ? সামনে শফিকুজ্জামান ভূঞার কঠিন পরীক্ষা

স্বাধীন খবর নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নতুন পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শফিকুজ্জামান ভূঞা। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিভাগীয় বিআরটিএ কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিআরটিএ কার্যালয়ের সেবা ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-হয়রানি বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের দালালনির্ভরতার অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেবাপ্রত্যাশীদের বড় প্রশ্ন—নতুন পরিচালক কি সত্যিই দালালনির্ভরতার সংস্কৃতি ভেঙে সরাসরি ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন?

সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি অর্থের অভিযোগ
চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস, রুট পারমিটসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর অভিযোগ নতুন নয়।

২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ, দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেবাপ্রত্যাশীদের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সরকারি ফি দেওয়ার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের একটি অংশ নিয়ম-কানুন ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় দালালের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। আর এই সুযোগেই একটি অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবস্থা তৈরি হয়।

দালাল নিয়ন্ত্রণে অভিযানও হয়েছে
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে দালালচক্রের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এক অভিযানে ৩২ জনকে আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২১ জনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে কারাদণ্ড এবং ২০ জনকে জরিমানা করা হয়। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ ও বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।

এ ধরনের অভিযান সাময়িকভাবে দালালদের তৎপরতা কমালেও প্রশ্ন থেকে যায়—অভিযান শেষ হওয়ার পর একই পরিবেশে তারা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে কি না।
শুধু অভিযান নয়, দরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে শুধু অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়। কোন সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে, কত টাকা সরকারি ফি, কতদিনে সেবা পাওয়ার কথা এবং আবেদনের প্রতিটি ধাপ কোথায় সম্পন্ন হবে—এসব তথ্য সেবাপ্রত্যাশীর কাছে সহজ ও দৃশ্যমান করতে হবে।
ডিজিটাল আবেদন ও অনলাইন পেমেন্টের সুযোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কোনো সেবার ক্ষেত্রে মানুষের সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। এই জায়গাগুলোতেই মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তাই নতুন পরিচালকের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সেবাপ্রত্যাশী ও দালালের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের জায়গাগুলো বন্ধ করা।

শফিকুজ্জামান ভূঞার জন্য নতুন দায়িত্ব কতটা কঠিন?
চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। বিপুলসংখ্যক যানবাহন, পরিবহন ব্যবসা ও চালকের কারণে এ অঞ্চলে বিআরটিএর ওপর সেবার চাপও বেশি।

শফিকুজ্জামান ভূঞা এর আগে চট্টগ্রামেই বিআরটিএর উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অতীতে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে গণপরিবহনের ভাড়া ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ফলে নতুন দায়িত্বে এসে তাঁর সামনে একদিকে রয়েছে কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার কাজ, অন্যদিকে রয়েছে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ।

নজর থাকবে কয়েকটি বিষয়ে
নতুন পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রাম বিআরটিএতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর থাকবে—
১. দালালমুক্ত সেবা: কার্যালয়ের ভেতর ও আশপাশে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

২. সরকারি ফি বনাম অতিরিক্ত অর্থ: সেবাপ্রত্যাশীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ কীভাবে মোকাবিলা করা হয়।
৩. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি: কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

৪. সেবার সময়সীমা: লাইসেন্স, ফিটনেস, নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নির্ধারিত সময়ে দেওয়া হচ্ছে কি না।
৫. অভিযোগের প্রতিকার: সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলে সেটির বাস্তব সমাধান কতটা দ্রুত হয়।
৬. দালালদের বিকল্প তৈরি: সেবাপ্রত্যাশী যেন নিজের কাজ নিজেই সহজে করতে পারেন, সে ব্যবস্থা কতটা কার্যকর করা হয়।

‘দালাল ছাড়া কাজ হয় না’—এই ধারণা বদলানোর পরীক্ষা
বিআরটিএর মতো একটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে সেবাটি কতটা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তার ওপর।

দালালকে কেন্দ্র করে যদি কোনো সেবা পাওয়ার ধারণা তৈরি হয়, তাহলে শুধু দালাল ধরে জরিমানা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। কোথায় সিস্টেমের দুর্বলতা রয়েছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি, কোথায় দীর্ঘসূত্রতা এবং কোথায় অভ্যন্তরীণ অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এসব চিহ্নিত করাও জরুরি।

নতুন পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঞার জন্য তাই চ্যালেঞ্জ শুধু একটি দপ্তর পরিচালনা নয়; বরং চট্টগ্রাম বিআরটিএকে সাধারণ মানুষের কাছে ‘দালালনির্ভর কার্যালয়’ নয়, সরাসরি নাগরিক সেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

এখন দেখার বিষয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কতটা দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারেন। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রত্যাশা—অভিযান হবে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি হবে ব্যবস্থার সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।