চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় সেন্ট্রাল প্লাজার পার্কিংয়ে দোকান স্থাপন, সড়কের ওপর ক্রেতাদের গাড়ি রাখা, আশপাশে অবৈধ দোকান ও বিলবোর্ড এবং দোকানের সামনের জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। এসব অনিয়ম নিয়ে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।
চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা জিইসি মোড়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই এলাকায় যাতায়াত করেন। বিভিন্ন বিপণিবিতান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সড়কে যানবাহনের চাপও থাকে বেশি। এর মধ্যে নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার এবং সড়কে গাড়ি রাখার কারণে যানজট আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেন্ট্রাল প্লাজার পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান স্থাপনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা যদি অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে বিপণিবিতানে আসা ক্রেতাদের গাড়ি রাখার জায়গা কমে যায়। ফলে অনেক গাড়ি সড়কের পাশে বা সড়কের ওপর রাখা হয়। এতে ব্যস্ত জিইসি মোড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ছাড়া জিইসি মোড় ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ দোকান, বিলবোর্ড স্থাপন এবং দোকানের সামনের অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এতে ফুটপাত ও চলাচলের জায়গা সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনা ও সৌন্দর্যও ব্যাহত হচ্ছে।
এসব বিষয়ে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, নগর পরিকল্পনায় যে জায়গা যে উদ্দেশ্যে নির্ধারিত, সেটি সেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা প্রয়োজন। পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার করা হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো সড়কব্যবস্থার ওপর।
তিনি বলেন, কোনো বিপণিবিতান বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকলে ক্রেতাদের গাড়ি সড়কে চলে আসে। এতে যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে।
জিইসি মোড়ের আশপাশে অবৈধ স্থাপনা, বিলবোর্ড ও দোকানের সামনের জায়গা দখলের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, জিইসি মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট কমাতে শুধু সড়ক প্রশস্ত করাই যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান পার্কিং ব্যবস্থার সঠিক ব্যবহার, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অনুমোদনহীন স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, জিইসি মোড়সহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় পার্কিং ও দখলসংক্রান্ত অনিয়ম চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেবে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি পথচারী ও যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।