, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাক থেকে স্ক্র্যাপ লোহা চুরি, চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ নজরদারি বাংলাদেশে অফিস খুলতে মেটাকে শামা ওবায়েদের আহ্বান আইনে স্বীকৃতি, তবু বদলায়নি গৃহকর্মীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে অজয় বাঙ্গার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক প্রাথমিক শিক্ষায় এআই: এবার শিক্ষক প্রশিক্ষণে জোর মেয়র অনূর্ধ্ব-১৩ একাডেমি কাপে সিএফটিসির দায়িত্বে যারা ঢাকায় শুরু পাকিস্তানি পণ্যের প্রদর্শনী, অংশ নিয়েছেন শতাধিক প্রতিষ্ঠান যানজট-ডেঙ্গু-জলাবদ্ধতা: ঢাকার তিন সংকটে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ সামনে রেখে বাংলাদেশের ‘কণ্ঠস্বর’ ঠিক করার প্রস্তুতি পিপলস হাসপাতাল ঘিরে পুরোনো বিতর্ক, পার্কিং ও রোগীসেবায় নতুন অভিযোগ

আইনে স্বীকৃতি, তবু বদলায়নি গৃহকর্মীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি

  • প্রকাশের সময় : ১৩ ঘন্টা আগে
  • ১৭ পড়া হয়েছে

আইনে স্বীকৃতি মিলেছে, বদলাবে কি মানসিকতা?
গৃহকর্মীদের অধিকার বাস্তবায়নে সামাজিক পরিবর্তনের আহ্বান

স্বাধীন খবর ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬:

আইন ও নীতিগতভাবে গৃহকর্মীদের অধিকার স্বীকৃতি পেলেও তাঁদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো বড় পরিবর্তন আসেনি। ন্যায্য মজুরি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, হয়রানি থেকে সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এখনো বহু গৃহকর্মীর জন্য অনিশ্চিত।

বক্তারা বলেছেন, শুধু আইন পরিবর্তন করলেই হবে না; গৃহকর্মীদের প্রতি পরিবার, নিয়োগকর্তা ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁদের শ্রমের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে আইনি অগ্রগতির সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।
আজ বুধবার ঢাকার আলোকিতে বাংলাদেশে অক্সফ্যামের আয়োজনে ‘হ্যান্ডস দ্যাট হোল্ড হোমস: রাইটস, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ডমেস্টিক ওয়ার্কারস’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কানাডা সরকারের সহায়তায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত ‘সুনীতি—নারী গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা’ প্রকল্পের সাত বছরের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অধিকার সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা গৃহকর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশোধিত শ্রম আইনের আলোকে শ্রম বিধিমালা হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, আইন ও নীতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। গৃহকর্মীদের সহকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মস্থল ও আবাসিক ভবনে দিবাযত্ন কেন্দ্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি গৃহকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের স্বীকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এ স্বীকৃতি এখনো আংশিক। তাঁর মতে, ‘সুনীতি’ প্রকল্পের অন্যতম অর্জন হলো গৃহকর্মীদের সংগঠিত করা এবং তাঁদের নিজস্ব নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা।

কানাডা সরকারের অ্যাক্টিং হেড অব করপোরেশন জেন পালমার বলেন, ‘সুনীতি’ প্রকল্প গৃহকর্মীদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নিরান রামজুথান বলেন, গৃহকর্মীদের অদৃশ্য ও অনানুষ্ঠানিক অবস্থান থেকে আইনি সুরক্ষার কাঠামোয় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক ফারাহ্ কবির বলেন, গৃহকর্মীদের বিষয়ে সমাজের প্রচলিত মানসিকতায় এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। একই সঙ্গে শিশুদের যাতে ভবিষ্যতে গৃহকর্মে যুক্ত হতে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে অক্সফ্যামের অন্তর্বর্তী দেশীয় পরিচালক অনিল পান্ত বলেন, আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে গৃহকর্মীদের জাতীয় ফোরামের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা বক্তব্য দেন। প্রকল্পের যাত্রা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাংলাদেশে অক্সফ্যামের কর্মসূচি পরিচালক মাহমুদা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে ‘সুনীতি’ প্রকল্পের সাত বছরের অভিজ্ঞতা, তথ্য-প্রমাণ, নীতিগত বিশ্লেষণ এবং গৃহকর্মীদের জীবনের ১০টি গল্প নিয়ে তৈরি প্রধান প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ফলাফলে বলা হয়, গৃহকর্মীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশ হয়েছে। মজুরি নিয়ে দর-কষাকষির সক্ষমতা ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশ এবং লিখিত চুক্তির হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮ শতাংশ হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ গৃহকর্মী আগের তুলনায় বেশি মজুরি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মাসিক আয় গড়ে ৮৫০ টাকা বেড়েছে।

দুপুরের পর ‘স্বীকৃতি থেকে নিরাপদ ভবিষ্যৎ: অধিকার, শ্রমিক নেতৃত্ব, মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় সংশোধিত শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা, দক্ষতার স্বীকৃতি, নিয়োগকর্তার জবাবদিহি এবং গৃহকর্মীদের নেতৃত্ব শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দিনের শেষ অধিবেশনে গৃহকর্মীদের জীবনের গল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও গৃহকর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কাজ শেষ হয়নি। আইন, প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই সম্মিলিত পরিবর্তন প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম।

জনপ্রিয়

চলন্ত ট্রাক থেকে স্ক্র্যাপ লোহা চুরি, চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

আইনে স্বীকৃতি, তবু বদলায়নি গৃহকর্মীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশের সময় : ১৩ ঘন্টা আগে

আইনে স্বীকৃতি মিলেছে, বদলাবে কি মানসিকতা?
গৃহকর্মীদের অধিকার বাস্তবায়নে সামাজিক পরিবর্তনের আহ্বান

স্বাধীন খবর ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬:

আইন ও নীতিগতভাবে গৃহকর্মীদের অধিকার স্বীকৃতি পেলেও তাঁদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে এখনো বড় পরিবর্তন আসেনি। ন্যায্য মজুরি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, হয়রানি থেকে সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো এখনো বহু গৃহকর্মীর জন্য অনিশ্চিত।

বক্তারা বলেছেন, শুধু আইন পরিবর্তন করলেই হবে না; গৃহকর্মীদের প্রতি পরিবার, নিয়োগকর্তা ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁদের শ্রমের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে আইনি অগ্রগতির সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।
আজ বুধবার ঢাকার আলোকিতে বাংলাদেশে অক্সফ্যামের আয়োজনে ‘হ্যান্ডস দ্যাট হোল্ড হোমস: রাইটস, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ডমেস্টিক ওয়ার্কারস’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কানাডা সরকারের সহায়তায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত ‘সুনীতি—নারী গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা’ প্রকল্পের সাত বছরের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অধিকার সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা গৃহকর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশোধিত শ্রম আইনের আলোকে শ্রম বিধিমালা হালনাগাদের কাজও এগিয়ে চলছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, আইন ও নীতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। গৃহকর্মীদের সহকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মস্থল ও আবাসিক ভবনে দিবাযত্ন কেন্দ্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি গৃহকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের স্বীকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এ স্বীকৃতি এখনো আংশিক। তাঁর মতে, ‘সুনীতি’ প্রকল্পের অন্যতম অর্জন হলো গৃহকর্মীদের সংগঠিত করা এবং তাঁদের নিজস্ব নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা।

কানাডা সরকারের অ্যাক্টিং হেড অব করপোরেশন জেন পালমার বলেন, ‘সুনীতি’ প্রকল্প গৃহকর্মীদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নিরান রামজুথান বলেন, গৃহকর্মীদের অদৃশ্য ও অনানুষ্ঠানিক অবস্থান থেকে আইনি সুরক্ষার কাঠামোয় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।
অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক ফারাহ্ কবির বলেন, গৃহকর্মীদের বিষয়ে সমাজের প্রচলিত মানসিকতায় এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। একই সঙ্গে শিশুদের যাতে ভবিষ্যতে গৃহকর্মে যুক্ত হতে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে অক্সফ্যামের অন্তর্বর্তী দেশীয় পরিচালক অনিল পান্ত বলেন, আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে গৃহকর্মীদের জাতীয় ফোরামের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা বক্তব্য দেন। প্রকল্পের যাত্রা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাংলাদেশে অক্সফ্যামের কর্মসূচি পরিচালক মাহমুদা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে ‘সুনীতি’ প্রকল্পের সাত বছরের অভিজ্ঞতা, তথ্য-প্রমাণ, নীতিগত বিশ্লেষণ এবং গৃহকর্মীদের জীবনের ১০টি গল্প নিয়ে তৈরি প্রধান প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ফলাফলে বলা হয়, গৃহকর্মীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশ হয়েছে। মজুরি নিয়ে দর-কষাকষির সক্ষমতা ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশ এবং লিখিত চুক্তির হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮ শতাংশ হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ গৃহকর্মী আগের তুলনায় বেশি মজুরি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মাসিক আয় গড়ে ৮৫০ টাকা বেড়েছে।

দুপুরের পর ‘স্বীকৃতি থেকে নিরাপদ ভবিষ্যৎ: অধিকার, শ্রমিক নেতৃত্ব, মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় সংশোধিত শ্রম আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা, দক্ষতার স্বীকৃতি, নিয়োগকর্তার জবাবদিহি এবং গৃহকর্মীদের নেতৃত্ব শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দিনের শেষ অধিবেশনে গৃহকর্মীদের জীবনের গল্প, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও গৃহকর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার কাজ শেষ হয়নি। আইন, প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই সম্মিলিত পরিবর্তন প্রয়োজন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম।