, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সালাম না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ম্যাক্সে কর্মীকে মারধরের অভিযোগ দুর্গাপূজায় নৌপথের নিরাপত্তায় বাড়ছে নজরদারি, ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ শার্শা সীমান্তে সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ অপরাধী চক্রের লাগাম টানতে ২৪ বছর পর ‘ক্লিন হার্ট’-এর আদলে অভিযান সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার অঙ্গীকারে সিআরএর নতুন সদস্যদের বরণ পার্কিংয়ে দোকান, সড়কে গাড়ি—জিইসি মোড়ে অনিয়মের জট ল্যাবএইডে ডেলিভারি চিকিৎসার খরচ নিয়ে প্রশ্ন, ৬৫ হাজার থেকে বিল ৯৮ হাজার চলন্ত ট্রাক থেকে স্ক্র্যাপ লোহা চুরি, চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ নজরদারি বাংলাদেশে অফিস খুলতে মেটাকে শামা ওবায়েদের আহ্বান আইনে স্বীকৃতি, তবু বদলায়নি গৃহকর্মীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি

গুজব ঠেকাতে সাইবার টিমকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের

  • প্রকাশের সময় : ০১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৮ পড়া হয়েছে

গুজব ঠেকাতে সাইবার টিমকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দুর্গাপূজা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি ঘিরে অপতথ্য শনাক্তে জোর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের

স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত, যাচাই ও প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপ ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যেকোনো তথ্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টার ওপরও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় Zoom অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।

শনাক্ত থেকে প্রতিরোধ—সমন্বিত কার্যক্রম
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য শনাক্তকরণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের মূল উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপার গুজব মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দেন—
গুজব শনাক্তকরণ → তথ্য যাচাই → ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ → প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার।

কোনো ঘটনা নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পুরোনো ছবি-ভিডিওতে নতুন গুজব, নজর সাইবার টিমের
সভায় বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কিংবা ভিন্ন দেশের/স্থানের ছবি ও ভিডিওকে সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে এর প্রকৃত উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে সাইবার মনিটরিং টিমকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ধর্মীয় উসকানি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কনটেন্টকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করতে বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ
সভায় সন্দেহজনক বা গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজের তথ্য, পোস্টের সময় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে কোনো তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

যাচাই ছাড়া পোস্ট শেয়ার না করার আহ্বান
সভায় গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি গুজব ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত করা, দ্রুত সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এর মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

সালাম না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ম্যাক্সে কর্মীকে মারধরের অভিযোগ

গুজব ঠেকাতে সাইবার টিমকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের

প্রকাশের সময় : ০১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুজব ঠেকাতে সাইবার টিমকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দুর্গাপূজা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি ঘিরে অপতথ্য শনাক্তে জোর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের

স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত, যাচাই ও প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপ ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যেকোনো তথ্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টার ওপরও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় Zoom অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।

শনাক্ত থেকে প্রতিরোধ—সমন্বিত কার্যক্রম
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য শনাক্তকরণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের মূল উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপার গুজব মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দেন—
গুজব শনাক্তকরণ → তথ্য যাচাই → ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ → প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার।

কোনো ঘটনা নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পুরোনো ছবি-ভিডিওতে নতুন গুজব, নজর সাইবার টিমের
সভায় বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কিংবা ভিন্ন দেশের/স্থানের ছবি ও ভিডিওকে সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ধরনের কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে এর প্রকৃত উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে সাইবার মনিটরিং টিমকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ধর্মীয় উসকানি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন কনটেন্টকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করতে বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ
সভায় সন্দেহজনক বা গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজের তথ্য, পোস্টের সময় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে কোনো তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

যাচাই ছাড়া পোস্ট শেয়ার না করার আহ্বান
সভায় গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি গুজব ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত করা, দ্রুত সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এর মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।