
পাহাড় কাটা ও জমি দখল বাণিজ্যের অভিযোগ, বায়েজিদে সোহেল মাহমুদকে ঘিরে বিতর্ক
স্বাধীন খবর, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পাহাড় কাটা, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল, প্লট বেচাকেনা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর পরিচালনাসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে একটি কথিত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এ সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চাপে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারকারী সোহেল মাহমুদ। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা বাহার উদ্দিন ওরফে ‘মাটি বাহার’ এবং সামশুদ্দিন বাদলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি পাহাড় কাটা, সরকারি-বেসরকারি জমি দখল, প্লট বেচাকেনা এবং শিল্পকারখানাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে সোহেল মাহমুদকে ঘিরে।
এলাকাবাসীর দাবি, আরেফিন নগর, মুক্তিযোদ্ধা কলোনি ও ডেবার পাড়সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কথিত এ চক্রের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দিনের বেলায় কিংবা রাতের আঁধারে পাহাড় কাটা ও ভূমি দখলের মতো কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ দৃশ্যমান দেখা যায় না।
সম্প্রতি বায়েজিদের মুক্তিযোদ্ধা কলোনির ৩০৬ নম্বর দাগে সোহেল মাহমুদের নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিজের কেনা জমি বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে জমিটির মালিকানা, দলিলপত্র, দাগের বিবরণ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাহার উদ্দিন ও সামশুদ্দিন বাদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সোহেল মাহমুদ। তাঁদের অভিযোগ, ওই সময় বায়েজিদের চন্দ্রনগর, চৌধুরীনগর, গ্রিনভ্যালি, নীলাচল, ডেবার পাড়, বলবিথী, জেড আবাসিক, আরেফিন নগর ও মুক্তিযোদ্ধা কলোনি এলাকায় পাহাড় কাটা এবং জমি দখলসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে তাঁর প্রভাব ছিল।
স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোহেল মাহমুদ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সোহেল মাহমুদের সঙ্গে সখ্য থাকা কিংবা তাঁকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় পাহাড় কাটা, সরকারি জমি দখল, অবৈধ প্লট বাণিজ্য এবং মাদক ও জুয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।














