, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিএনজি ওয়ার্কশপে ‘অন্য’ কারবার, মিলল পেনগান-পিস্তল ও গুলি গণতন্ত্র ও জনকল্যাণে অঙ্গীকারবদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সালাহউদ্দিনের রাজনৈতিক পরিচয় দেখে অপরাধীকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্গম সীমান্তে নজরদারিতে ড্রোন, রাতে চলবে থার্মাল প্রযুক্তি পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চান মন্ত্রী ‘ঢাকায় বসে শুধু নির্দেশনা নয়, মাঠে থেকে পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নিতে চাই’ ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, চট্টগ্রাম থেকে ৪ মাসের শিশু উদ্ধার ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৪২, উদ্ধার অস্ত্র-ইয়াবা যাত্রাবাড়ী, তুরাগ ও লালবাগে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৭ নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

দুর্গম সীমান্তে নজরদারিতে ড্রোন, রাতে চলবে থার্মাল প্রযুক্তি

  • প্রকাশের সময় : ১৪ ঘন্টা আগে
  • ২৫ পড়া হয়েছে

দুর্গম সীমান্তে নজরদারিতে ড্রোন, রাতে চলবে থার্মাল প্রযুক্তি

স্বাধীন খবর সিলেট | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গম ও বনাঞ্চলঘেরা সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিসংবলিত ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


আজ মঙ্গলবার সকালে বিজিবির সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)’ উদ্বোধন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিশেষায়িত এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তের এমন অনেক দুর্গম ও বনাঞ্চল রয়েছে, যেখানে সরাসরি জনবল মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। এসব এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স চালানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, থার্মাল প্রযুক্তির সুবিধার কারণে রাতের অন্ধকারেও সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সম্ভাব্য রুট শনাক্ত করে তা প্রতিরোধে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


তাঁর ভাষ্য, ড্রোনের ব্যবহার শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগের সময়ও এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান এবং দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণ পৌঁছে দিতে বিজিবি সফলভাবে ড্রোন ব্যবহার করেছে।

শুধু বিজিবি নয়, প্রশিক্ষণ পাবে বেসামরিক জনবলও
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে SSSDW-তে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিগুলো এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ জনতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

উদ্বোধনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে SSSDW-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। পরে তিনি ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় বিজিবির পরিচালনায় বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে SSSDW-এর যাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ড্রোনভিত্তিক নজরদারির নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আকাশপথে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এই উদ্যোগ সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও তথ্যনির্ভর ও আধুনিক করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

সিএনজি ওয়ার্কশপে ‘অন্য’ কারবার, মিলল পেনগান-পিস্তল ও গুলি

দুর্গম সীমান্তে নজরদারিতে ড্রোন, রাতে চলবে থার্মাল প্রযুক্তি

প্রকাশের সময় : ১৪ ঘন্টা আগে

দুর্গম সীমান্তে নজরদারিতে ড্রোন, রাতে চলবে থার্মাল প্রযুক্তি

স্বাধীন খবর সিলেট | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গম ও বনাঞ্চলঘেরা সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিসংবলিত ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক ডিজিটাল নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


আজ মঙ্গলবার সকালে বিজিবির সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)’ উদ্বোধন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিশেষায়িত এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তের এমন অনেক দুর্গম ও বনাঞ্চল রয়েছে, যেখানে সরাসরি জনবল মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। এসব এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স চালানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, থার্মাল প্রযুক্তির সুবিধার কারণে রাতের অন্ধকারেও সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সম্ভাব্য রুট শনাক্ত করে তা প্রতিরোধে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


তাঁর ভাষ্য, ড্রোনের ব্যবহার শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগের সময়ও এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান এবং দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণ পৌঁছে দিতে বিজিবি সফলভাবে ড্রোন ব্যবহার করেছে।

শুধু বিজিবি নয়, প্রশিক্ষণ পাবে বেসামরিক জনবলও
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে SSSDW-তে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিগুলো এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ জনতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

উদ্বোধনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে SSSDW-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। পরে তিনি ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় বিজিবির পরিচালনায় বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে SSSDW-এর যাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ড্রোনভিত্তিক নজরদারির নতুন অধ্যায় শুরু হলো।

দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আকাশপথে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এই উদ্যোগ সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও তথ্যনির্ভর ও আধুনিক করার লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।