প্রকাশের সময় :
১২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪
পড়া হয়েছে
জমজম কূপ: এক জীবন্ত নিদর্শন
মরুর বুকে হাজার বছরের পানির ধারা—উৎপত্তি, পানির উৎস, গভীরতা ও রহস্যের অন্তরালে
স্বাধীন খবর বিশেষ প্রতিবেদন
মরুভূমির শহর মক্কা। চারদিকে পাথুরে পাহাড়, শুষ্ক ভূপ্রকৃতি ও সীমিত পানির প্রাকৃতিক উৎস। অথচ এই মক্কার হৃদয়েই রয়েছে এমন এক কূপ, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের ধর্মীয় ইতিহাস, কোটি মানুষের বিশ্বাস এবং আধুনিক ভূতত্ত্বেরও গভীর আগ্রহ। সেটিই পবিত্র জমজম কূপ।
মসজিদুল হারামের মাতাফ এলাকায় কাবা শরিফের পূর্বদিকে, আনুমানিক ২১ মিটার দূরে অবস্থিত এই কূপ মুসলমানদের কাছে শুধু পানির উৎস নয়; এটি হজরত ইবরাহিম (আ.), হজরত হাজেরা (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি পবিত্র নিদর্শন।
মরুর বুকে কীভাবে শুরু হলো জমজম?
ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-কে মক্কার অনাবাদী উপত্যকায় রেখে যান। সেখানে তখন কোনো দৃশ্যমান পানির উৎস ছিল না।
পানির মজুত শেষ হয়ে গেলে শিশু ইসমাইল (আ.)-এর তৃষ্ণায় হজরত হাজেরা (আ.) পানির সন্ধানে সাফা ও মারওয়ার মধ্যে ছুটতে থাকেন। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এ সময় আল্লাহর হুকুমে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে জমজমের পানির উৎস প্রকাশ পায়।
হজরত হাজেরা (আ.) পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তা আটকে রাখার চেষ্টা করেন। ইসলামী বর্ণনায় এই ঘটনার সঙ্গেই জমজমের উৎপত্তি যুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কূপটি একসময় আড়ালে চলে যায় এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দাদা আবদুল মুত্তালিব পুনরায় এটি খনন করেন—এমন বর্ণনাও ইসলামী ঐতিহ্যে রয়েছে।
‘জমজম’ কি কেবল একটি কূপ?
ভূতাত্ত্বিক অর্থে এটি একটি ভূগর্ভস্থ পানির কূপ। কিন্তু ধর্মীয় অর্থে এর মর্যাদা অনেক গভীর।
মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জমজম আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের নিদর্শন। হাদিসে জমজমের পানিকে বরকতময় এবং খাদ্যের মতো পুষ্টিদায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ জমজমের দুটি দিক রয়েছে—
একদিকে: এর রয়েছে বাস্তব ভূগর্ভস্থ পানির উৎস ও ভূতাত্ত্বিক কাঠামো।
অন্যদিকে: মুসলমানদের কাছে এর রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা।
দুটি বিষয়কে এক করে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপস্থাপন করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে এর ধর্মীয় তাৎপর্যও অস্বীকার করা যায় না।
মাত্র ৩০ মিটার গভীর—তবুও এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
আধুনিক তথ্য অনুযায়ী, জমজম কূপের গভীরতা প্রায় ৩০ মিটার। এর ওপরের প্রায় ১২.৮০ মিটার অংশ নির্মিত কাঠামোর মধ্যে এবং নিচের প্রায় ১৭.২০ মিটার অংশ পাহাড়ি শিলার মধ্যে বিস্তৃত। বিভিন্ন গভীরতায় এর ব্যাস আনুমানিক ১.৫ থেকে ২.৫ মিটারের মধ্যে পরিবর্তিত হয়।
অন্য একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কূপটির গভীরতা প্রায় ৩০.৫ মিটার এবং ব্যাস ১.০৮ থেকে ২.৬৬ মিটারের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জমজম কোনো অসীম গভীর ভূগর্ভস্থ গহ্বর নয়। তুলনামূলকভাবে অল্প গভীরতার এই কূপ একটি ভূগর্ভস্থ পানিব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত।
তাহলে পানি আসে কোথা থেকে?
এখানেই জমজমের বৈজ্ঞানিক দিকটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, জমজমের পানি ওয়াদি ইবরাহিমের ভূগর্ভস্থ পানিব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। কূপের ওপরের অংশে পলিমাটি বা alluvial material এবং নিচের অংশে শক্ত শিলাস্তর রয়েছে।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কূপের ওপরের প্রায় ১৪ মিটার অংশ ওয়াদি ইবরাহিমের বালুকাময় পলিমাটির মধ্যে এবং নিচের অংশ ডায়োরাইট শিলাস্তরে অবস্থিত। ভূগর্ভস্থ পানির প্রবেশের ক্ষেত্রে আশপাশের পাহাড়ের শিলার ফাটল বা fractures গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় জমজমের পানি কোনো ‘অজানা মহাশূন্যীয় উৎস’ থেকে আসে—এমন প্রমাণ নেই। বরং এটি একটি প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পানিব্যবস্থার অংশ।
তবে এখানেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হয়—
এত মানুষের পানির চাহিদার পরও পানির স্তর কীভাবে পুনরায় ফিরে আসে?
পাম্পিংয়ের পরও পানির স্তর ফিরে আসে কীভাবে?
২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জমজমের পানির প্রবাহ ও পুনর্ভরণের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
গবেষণায় উদ্ধৃত পরীক্ষায় দীর্ঘ সময় পানি পাম্প করার ফলে পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার কমে গিয়েছিল। কিন্তু পাম্প বন্ধ করার পর পানির স্তর আনুমানিক ১১ মিনিটের মধ্যেই প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। গবেষণাটি ইঙ্গিত করে যে আশপাশের শিলার ফাটল ও ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ কূপটিকে দ্রুত পুনর্ভরণে সহায়তা করে।
এটি জমজমের বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি।
তবে এটিকে ‘পদার্থবিজ্ঞানের রহস্য’ বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে না। বরং বলা যায়—
দ্রুত পুনর্ভরণক্ষম একটি ভূগর্ভস্থ পানিব্যবস্থা জমজম কূপকে দীর্ঘকাল পানি সরবরাহে সক্ষম করেছে।
তিন দিক থেকে আসা ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ?
সৌদি সরকারি তথ্যভিত্তিক Saudipedia-তে আধুনিক গবেষণার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জমজমের পানির সঙ্গে প্রাচীন bedrock-এর তিনটি rock fracture-এর সম্পর্ক রয়েছে। এসব ফাটলের মাধ্যমে পানি কূপের দিকে এসে একত্রিত হয় বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন—এটি ভূতাত্ত্বিক পানির প্রবাহের ব্যাখ্যা, ধর্মীয় বর্ণনায় জমজমের অলৌকিক উৎপত্তির বিকল্প ব্যাখ্যা নয়।
পানির বৈশিষ্ট্যেও কি বিশেষত্ব আছে?
জমজমের পানি সাধারণ ভূগর্ভস্থ পানির তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি খনিজসমৃদ্ধ।
সৌদি সরকারি তথ্য অনুযায়ী এতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ লবণের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য এবং এতে ফ্লোরাইডও রয়েছে।
২০২১ সালে Heliyon-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় সরাসরি সংগৃহীত ছয়টি জমজম পানির নমুনা এবং একটি বোতলজাত নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় পরীক্ষিত অধিকাংশ রাসায়নিক উপাদান WHO ও EPA-এর সংশ্লিষ্ট সীমার মধ্যে ছিল; TDS-এর গড় মান প্রায় ৮১৪ mg/L এবং বোতলজাত নমুনায় প্রায় ৮১২ mg/L পাওয়া যায়।
তবে গবেষণাটির নমুনা সংখ্যা সীমিত ছিল। তাই এটিকে সব সময়ের জন্য জমজমের পানির চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড হিসেবে দেখা উচিত নয়।
পানির মধ্যে কি কোনো জীবাণু থাকে?
জমজমের পানির গুণমান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হয়েছে।
২০১৭ সালের একটি গবেষণায় ৫০টি জমজম পানির নমুনার রাসায়নিক ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষণাটিতে বিভিন্ন দ্রবীভূত উপাদান, ভারী ধাতু এবং জীবাণুবিষয়ক সূচক পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং গবেষণার নমুনাগুলোতে উল্লেখযোগ্য দূষণ পাওয়া যায়নি বলে রিপোর্ট করা হয়।
তবে পানির মান সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের জন্য সাম্প্রতিক সরকারি পরীক্ষার ফলাফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তাহলে ‘জমজম কখনো শেষ হয় না’—এ কথার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কী?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।
জমজমকে ‘কখনো শেষ হয় না’ বলা মূলত ধর্মীয় ও লোকপ্রচলিত ভাষা। বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো ভূগর্ভস্থ পানির উৎসকে একেবারে অসীম বলা যায় না।
বরং জমজমের ক্ষেত্রে বলা যায়—
কূপটি এমন একটি ভূগর্ভস্থ পানিব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত, যেখানে পানি পুনর্ভরণ বা recharge হয়।
আশপাশের পাহাড় ও শিলাস্তরের ফাটল দিয়ে পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করে এবং ভূগর্ভস্থ প্রবাহের মাধ্যমে কূপের পানির স্তর পুনরায় পূরণ হতে পারে।
প্রতি সেকেন্ডে কত পানি?
সৌদি সরকারি তথ্য অনুযায়ী জমজম কূপের পাম্পিং সক্ষমতা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রায় ১১ থেকে ১৮.৫ লিটার/সেকেন্ড পর্যন্ত হতে পারে। কূপ থেকে পানি বড় পাম্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।
জমজমের পানি মসজিদুল হারামের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় এবং মদিনার মসজিদে নববীতেও পাঠানো হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী সাধারণ সময়ে মসজিদে নববীতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার লিটার এবং ধর্মীয় মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ লিটার জমজম পানি পাঠানো হয়।
চারপাশের পরিবেশ কেমন?
আজ জমজম কূপ আর খোলা মরুভূমির কোনো বিচ্ছিন্ন কূপ নয়।
এটি এখন মসজিদুল হারামের বিশাল স্থাপনার অভ্যন্তরে, মাতাফ এলাকার অত্যন্ত সুরক্ষিত অংশে অবস্থিত। কূপটির মুখ সরাসরি তাওয়াফকারীদের চলাচলের মধ্যে রাখা হয়নি; আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পানি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।
বর্তমানে জমজমের পানি—
নির্দিষ্ট পাম্পের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়;
স্টেইনলেস-স্টিল পাইপের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়;
নির্দিষ্ট ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়;
পানির গুণমান পরীক্ষা করা হয়;
মসজিদুল হারামে নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করা হয়;
প্রয়োজন অনুযায়ী মদিনাতেও পাঠানো হয়।
পানি উত্তোলন ও পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক monitoring এবং SCADA প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হয় বলে সৌদি সরকারি তথ্য জানায়।
হাজার বছরের কূপ, কিন্তু ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি
জমজমের সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈপরীত্য এখানেই।
একদিকে এর ইতিহাস ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী হজরত ইসমাইল (আ.)-এর সময় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
অন্যদিকে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হচ্ছে—
পাম্প → স্টেইনলেস-স্টিল পাইপ → সংরক্ষণ ব্যবস্থা → ল্যাবরেটরি পরীক্ষা → স্বয়ংক্রিয় monitoring → নির্দিষ্ট বিতরণ ব্যবস্থা।
২০১০ সালে কিং আবদুল্লাহ জমজম ওয়াটার প্রজেক্টের অধীনে পানি পরিশোধন, বোতলজাতকরণ ও পরিবহনের জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কূপের ভেতর কি মানুষ নেমে যেতে পারে?
বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য কূপের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ নেই। কূপের নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
১৯৭৯ সালে কূপ পরিষ্কারের জন্য বিশেষজ্ঞ দল ও ডুবুরি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সৌদি সরকারি ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। ওই পরিষ্কারের পর কূপের পানির প্রবাহ বৃদ্ধির কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন জমজম মুসলমানদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ?
জমজমের গুরুত্ব শুধু পানির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত—
হজরত ইবরাহিম (আ.)
হজরত হাজেরা (আ.)
হজরত ইসমাইল (আ.)
মক্কার প্রাচীন ইতিহাস
সাফা-মারওয়ার সাঈ
হজ ও ওমরাহ
এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস।
এই কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসলমানদের কাছে জমজমের পানি একটি বিশেষ ধর্মীয় স্মারক।
‘রহস্য’ কোথায়?
জমজমের রহস্যকে দুই ভাগে দেখা যায়।
ধর্মীয় রহস্য
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এর উৎপত্তি আল্লাহর বিশেষ কুদরতের নিদর্শন। হজরত হাজেরা (আ.) ও শিশু ইসমাইল (আ.)-এর তৃষ্ণার সময়ে এই পানির প্রকাশ ইসলামের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা।
বৈজ্ঞানিক বিস্ময়
আধুনিক ভূতত্ত্ব দেখিয়েছে, কূপটি একটি সক্রিয় ভূগর্ভস্থ পানিব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আশপাশের শিলা ও ফাটল দিয়ে পানির পুনর্ভরণ ঘটে এবং পাম্পিংয়ের পর পানির স্তর দ্রুত পুনরুদ্ধারের সক্ষমতা দেখা গেছে।
সুতরাং জমজমের ‘রহস্য’কে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয় যে বিজ্ঞান এর কোনো ব্যাখ্যাই দিতে পারে না। বরং বলা যায়—
বিজ্ঞান কূপের পানি কোথা থেকে আসে এবং কীভাবে ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ কাজ করে—তার একটি ভূতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিতে পারে; কিন্তু এর ধর্মীয় তাৎপর্য ও বিশ্বাসের জায়গাটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার বিষয় নয়।
উপসংহার
মরুভূমির মক্কায় প্রায় ৩০ মিটার গভীর একটি কূপ—কিন্তু তার ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।
একদিকে হজরত হাজেরা (আ.)-এর পানির সন্ধানে সাফা-মারওয়ার দৌড়, শিশু ইসমাইল (আ.)-এর তৃষ্ণা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে জমজমের পানির প্রকাশের ইসলামী বর্ণনা।
অন্যদিকে আধুনিক ভূতত্ত্বের চোখে ওয়াদি ইবরাহিমের ভূগর্ভস্থ পানিব্যবস্থা, শিলাস্তরের ফাটল, প্রাকৃতিক recharge এবং দ্রুত পানির স্তর পুনরুদ্ধারের বৈশিষ্ট্য।
এই দুই বাস্তবতার সংযোগেই জমজম আজ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম আলোচিত পবিত্র নিদর্শন।
জমজম কূপ তাই শুধু একটি কূপ নয়—এটি ইতিহাস, বিশ্বাস, ভূতত্ত্ব এবং মানবসভ্যতার দীর্ঘ স্মৃতির এক অনন্য মিলনস্থল।