, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পুনর্বিনিয়োগের জোরে তিন মাসে এফডিআই ৩৪৭ মিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক সংসদীয় অঙ্গনে বাংলাদেশের দুই অর্জন হুমকির জবাব কর্মসূচিতে, সিআরএর ঘোষণা ‘মার্চ টু পুলিশ কমিশনার’ সালাম না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ম্যাক্সে কর্মীকে মারধরের অভিযোগ দুর্গাপূজায় নৌপথের নিরাপত্তায় বাড়ছে নজরদারি, ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ শার্শা সীমান্তে সাড়ে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ অপরাধী চক্রের লাগাম টানতে ২৪ বছর পর ‘ক্লিন হার্ট’-এর আদলে অভিযান সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার অঙ্গীকারে সিআরএর নতুন সদস্যদের বরণ পার্কিংয়ে দোকান, সড়কে গাড়ি—জিইসি মোড়ে অনিয়মের জট ল্যাবএইডে ডেলিভারি চিকিৎসার খরচ নিয়ে প্রশ্ন, ৬৫ হাজার থেকে বিল ৯৮ হাজার

পুনর্বিনিয়োগের জোরে তিন মাসে এফডিআই ৩৪৭ মিলিয়ন ডলার

  • প্রকাশের সময় : ১৩ ঘন্টা আগে
  • ১৮ পড়া হয়েছে

পুনর্বিনিয়োগের আয় বাড়ায় নিট এফডিআই বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ ৩৪৬.৯৪ মিলিয়ন ডলার

স্বাধীন খবর নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় বেড়েছে ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬০ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ব্যবসা করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে মুনাফা করেছেন, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আবারও এ দেশেই বিনিয়োগ করেছেন।
তবে নতুন ইকুইটি মূলধন বিনিয়োগে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে নিট ইকুইটি মূলধন এসেছে ৭৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণপ্রবাহ কমেছে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ খাতে নিট প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারে। মোট ৩৩৩ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ এলেও আগের ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিশোধ করায় নিট প্রবাহ কমেছে।
ইপিজেডের বাইরের খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে
ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই বেড়েছে ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। তবে আগের প্রান্তিকে এ খাতে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকে বিনিয়োগ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এটি দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নাহিয়ান রহমান আরও বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করে বাংলাদেশে আরও বেশি ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ চলছে। কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণাও আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আশার কথা
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান নাহিয়ান রহমান। তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পের উন্নয়নকাজ এখন এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত সম্পন্ন কাজ এবং যেসব ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।

পুনর্বিনিয়োগের জোরে তিন মাসে এফডিআই ৩৪৭ মিলিয়ন ডলার

পুনর্বিনিয়োগের জোরে তিন মাসে এফডিআই ৩৪৭ মিলিয়ন ডলার

প্রকাশের সময় : ১৩ ঘন্টা আগে

পুনর্বিনিয়োগের আয় বাড়ায় নিট এফডিআই বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ ৩৪৬.৯৪ মিলিয়ন ডলার

স্বাধীন খবর নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় বেড়েছে ৫৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬০ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে ব্যবসা করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে মুনাফা করেছেন, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আবারও এ দেশেই বিনিয়োগ করেছেন।
তবে নতুন ইকুইটি মূলধন বিনিয়োগে কিছুটা কমতি দেখা গেছে। এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে নিট ইকুইটি মূলধন এসেছে ৭৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণপ্রবাহ কমেছে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। এ খাতে নিট প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারে। মোট ৩৩৩ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ এলেও আগের ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ পরিশোধ করায় নিট প্রবাহ কমেছে।
ইপিজেডের বাইরের খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে
ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) বাইরের খাতে নিট এফডিআই বেড়েছে ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। তবে আগের প্রান্তিকে এ খাতে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকে বিনিয়োগ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এটি দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের আস্থার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নাহিয়ান রহমান আরও বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করে বাংলাদেশে আরও বেশি ও উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ চলছে। কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণাও আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে আশার কথা
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে বিনিয়োগের জন্য আরও প্রস্তুত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান নাহিয়ান রহমান। তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল প্রকল্পের উন্নয়নকাজ এখন এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত সম্পন্ন কাজ এবং যেসব ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন কারখানা ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।