প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৩১, ২০২৬
নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
স্বাধীন খবর ঢাকা, ৩১ আগস্ট:
সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন এই বেতনস্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
আজ সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
সরকার জানিয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সময়ে গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতনস্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমানো হয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:১.৯৪৫ হলেও নতুন কাঠামোয় তা হবে ১:১.৭৮। ফলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (One Rank One Pension) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একসঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করতে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষের প্রয়োজন এবং ২০১৯ সালের আগের অবসরপ্রাপ্ত অসামরিক কর্মচারীদের তথ্য না থাকায় তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে অবসরভোগীদের জীবনযাত্রার মান ও বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।
মাসিক ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বাড়বে ৭৫ শতাংশ।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনধারীদের ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা এর বেশি নিট পেনশনধারীদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।
সরকারের ভাষ্য, এর ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি সুবিধা পাবেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা
সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া মোবাইল ভাতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধু ৫ম গ্রেডের কর্মচারীরা এই সুবিধা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়ন
নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও তা একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আগে সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপে ধাপে নিট পেনশন বৃদ্ধি করা হবে।
জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতনস্কেল অনুমোদন করা হবে। সেটিও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতনস্কেলের মতো ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
উপকার পাবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এই অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
সরকারের আশা, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণ, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত বিধান থাকবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর