প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৩১, ২০২৬
৩১ থেকে গ্রিন ইয়ার্ড শতাধিক করার লক্ষ্য
৩১ থেকে গ্রিন ইয়ার্ড শতাধিক করার লক্ষ্য
ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২৬
দেশে গ্রিন সার্টিফায়েড শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সংখ্যা ৩১ থেকে বাড়িয়ে শতাধিক করতে চায় সরকার। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩১টি ইয়ার্ড গ্রিন সার্টিফিকেশন পেয়েছে। আরও কয়েকটি ইয়ার্ড এ সার্টিফিকেশন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা জানান শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শিল্প মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।
‘বাংলাদেশ নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃব্যবহার প্রকল্প’-এর আওতায় ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিপ রিসাইক্লিংয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ।
টনের হিসাবে একসময় ভারতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বৈশ্বিক জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের অর্থনীতিতে শিপ রিসাইক্লিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ থেকে পাওয়া স্ক্র্যাপ দেশের স্টিল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল।
তবে অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলেন তিনি। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে শিপ রিসাইক্লিং শিল্পকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই করা সরকারের লক্ষ্য।
গ্রিন সার্টিফায়েড ইয়ার্ডের সংখ্যা শতাধিক করতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
বিপজ্জনক বর্জ্য বড় চ্যালেঞ্জ
শিপ রিসাইক্লিংয়ে বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, বড় জাহাজ ভাঙার সময় বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক উপাদান ও বর্জ্য তৈরি হয়। যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা না হলে এসব বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ কারণে বিপজ্জনক বর্জ্য নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিশোধন ও নিষ্পত্তির জন্য ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি বা টিএসডিএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত টিএসডিএফ শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের বিপজ্জনক বর্জ্যের বড় অংশ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প ও ইলেকট্রনিক বর্জ্যসহ বিভিন্ন উৎসের বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে।
এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠলে দেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্প আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকার, শিল্প মালিক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিপ রিসাইক্লিং খাতকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও টেকসই শিল্পে রূপান্তর করা সম্ভব।
কর্মশালায় শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপান মেরিন সায়েন্স কোম্পানির আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সুমিয়ুকি ওতসুকি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর