প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ৬, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
২ লাখ টাকা ঘুষের ফাঁদে পাহাড়তলীর সাব-রেজিস্ট্রার, দুদকের হাতে আটক ৩
পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযান
২ লাখ টাকা ঘুষসহ সাব-রেজিস্ট্রার আটক, আটক আরও দুই
স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালিয়ে ঘুষের ২ লাখ টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় অফিসের আরও দুই কর্মচারীকেও আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুদকের জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর একটি ট্র্যাপ টিম অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ।
আটক অপর দুজন হলেন—পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম এবং উমেদার রূপন দাশ।
দুই চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রিতে ঘুষ দাবির অভিযোগ
দুদক সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রির জন্য পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দাখিল করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়।
পরে দলিল দুটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান ও হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ওই আইনজীবীর কাছে ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে দুদকের কাছে অভিযোগ করা হয়।
ঘুষের দাবিতে নিরুপায় হয়ে ওই আইনজীবী প্রথমে দুদকের হটলাইন ১০৬-এ অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে তিনি দুদকের জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এ লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগের পর ট্র্যাপ অভিযান
অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশনের অনুমোদন নিয়ে মঙ্গলবার পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ট্র্যাপ অভিযান পরিচালনা করে দুদক।
দুদক সূত্রের দাবি, অভিযানের সময় ২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের ঘটনায় সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপন দাশকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
এ সময় ঘুষের টাকাও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
মামলার প্রস্তুতি
দুদক সূত্র জানিয়েছে, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে আটকের ঘটনায় পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি মামলা ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর