প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
সুন্দরবন-বাঘ-হাতি: পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশ-ভারতের বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত
সুন্দরবন-বাঘ রক্ষায় বাংলাদেশ-ভারতের নতুন উদ্যোগ, বৈঠক হবে ঢাকায়
স্বাধীন খবর ডেস্ক
সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের পরবর্তী সভা এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণ নিয়ে পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে, আন্তঃসীমান্ত এশীয় হাতি সংরক্ষণ নিয়ে পরবর্তী বৈঠক ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সীমান্ত মানে না পরিবেশগত সংকট
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, নদী ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়ায় দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশগত স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা বায়ুদূষণের মতো চ্যালেঞ্জ কোনো একটি দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় পারস্পরিক আস্থা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সুন্দরবন নিয়ে যৌথ উদ্যোগ
বৈঠকে সুন্দরবনকে দুই দেশের অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে এর জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সুন্দরবন গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। বনটির প্রতিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গবেষণা, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা বিনিময় আরও বাড়ানো যেতে পারে।
বায়ু ও নদীদূষণ নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বায়ুদূষণ ও নদীদূষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদান, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সবুজ অর্থনীতির বিকাশ নিয়েও মতবিনিময় হয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন পরিবেশমন্ত্রী।
সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা ভারতের
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমও উপস্থিত ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর