প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সাইবার বুলিং ঠেকাতে আইন, আইআরআইয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
সাইবার বুলিং ঠেকাতে আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও আইআরআইয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে মতবিনিময়, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব
স্বাধীন খবর নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সাইবার বুলিং, অনলাইন অপপ্রচার ও ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ নিয়ে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে আইআরআইয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআইয়ের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স।
সাইবার বুলিং নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি এবং আইনগত সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তিনি।
একই সঙ্গে আইআরআইয়ের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা বিষয়ক কর্মসূচি সম্পর্কেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন জন ফ্লুহার্টি।
‘সমালোচনা আর চরিত্রহনন এক নয়’
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন।
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, “গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন বা গালিগালাজ এক নয়।”
আইন সংশোধনে অংশীজনদের মতামত
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ পরিমার্জনের ক্ষেত্রে গত দুই মাস ধরে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময় করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা এবং নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আইনের অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধ রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্ব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে সরকার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইআরআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বৈঠকে মূলত সাইবার বুলিং নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা—এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর