প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২২, ২০২৬, ১১:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২২, ২০২৬, ২:৩১ পি.এম
রেমিট্যান্সের অর্থ এসএমইতে বিনিয়োগের পক্ষে তরুণদের যুক্তিতর্ক
রেমিট্যান্সের অর্থ এসএমইতে বিনিয়োগের পক্ষে তরুণদের যুক্তিতর্ক
স্বাধীন খবর ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০২৬:
অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি অংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) বিনিয়োগ করা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানো সম্ভব—এমন মত উঠে এসেছে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায়।
আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) অনুষ্ঠিত ‘আইওএম-ডিএফডি বিতর্ক প্রতিযোগিতা’-য় তরুণ বিতার্কিকেরা রেমিট্যান্সের টেকসই ব্যবহার নিয়ে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) বিনিয়োগই উত্তম কৌশল।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত এ ছায়া সংসদ বিতর্ক পরিচালনা করে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি (ডিএফডি)।
বিতর্কে অংশ নেওয়া তরুণেরা বলেন, রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরে দেশের পরিবারগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সঞ্চয়, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা গেলে তা ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি বৃহত্তর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বনদ বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের সুফল শুধু অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও এর প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, অভিবাসীদের পাঠানো প্রতিটি রেমিট্যান্স তাঁদের কঠোর পরিশ্রম, সহনশীলতা ও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। রেমিট্যান্সের একটি অংশ এসএমই খাতে বিনিয়োগ করা হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি রেমিট্যান্স স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁর মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমাতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে অংশ নেওয়া ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) বিরোধী দল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে (এসইউবি) পরাজিত করে।
চার সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রতিযোগিতাটি মূল্যায়ন করেন অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার আহমেদ রেজা, বাংলাদেশ ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিক্যাব) সাবেক সভাপতি মাইনুল আলম এবং আইওএম বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (গভর্নমেন্ট লিয়াজোঁ) ড. এস এম মোর্শেদ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর