প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
পিপলস হাসপাতাল ঘিরে পুরোনো বিতর্ক, পার্কিং ও রোগীসেবায় নতুন অভিযোগ
পিপলস হাসপাতালে পুরোনো অভিযোগের ছায়া, সেবাব্যবস্থায় নানা অসঙ্গতির অভিযোগ
স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম
২০১৮ সালে নবজাতকের মরদেহ ডাস্টবিনে, ২০২০ ও ২০২২ সালে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান; বর্তমানে পার্কিং ও রোগীসেবা নিয়েও অভিযোগ
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজারের পিপলস হাসপাতালকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগের পাশাপাশি বর্তমানে পার্কিং, রোগী ব্যবস্থাপনা ও সেবার পরিবেশ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে। ২০১৮ সালে মৃত নবজাতকের মরদেহ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ, ২০২০ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে অসংগতির তথ্য এবং ২০২২ সালে অপারেশন থিয়েটারে অনিয়ম ধরা পড়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতের বিতর্ককে সামনে এনেছে।
চকবাজারের ৯৪ কে বি ফজলুল কাদের রোডের এই হাসপাতালটি বর্তমানে সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রিতে সক্রিয় বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে তালিকাভুক্ত।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নথিতেও প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত।
আট বছর আগের সেই ঘটনা
২০১৮ সালের ২২ মে পিপলস হাসপাতালে যমজ সন্তান প্রসবের পর একটি মৃত নবজাতকের মরদেহ পরিবারের অনুমতি ছাড়াই ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও হাসপাতালকর্মীদের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সে সময় ঘটনাটিকে পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে স্বীকার করে দায়ী নার্স ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য বিভাগের দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে হাসপাতালের প্রশাসনিক পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
২০২০ সালে আবার স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান
২০২০ সালের নভেম্বরে পিপলস হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়। সে সময় অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তারা হাসপাতালে ‘বেশ কিছু অসংগতি’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
২০২২ সালে অপারেশন থিয়েটারে অনিয়ম
এরপর ২০২২ সালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পিপলস হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। সে সময় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পার্কিং নিয়ে নতুন করে অভিযোগ
পুরোনো এসব ঘটনার পাশাপাশি বর্তমানে হাসপাতালটির পার্কিং ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের মেডিকেল এলাকার হাসপাতালগুলোর পার্কিং পরিস্থিতি নিয়ে পিপলস হাসপাতালের পার্কিং সুবিধাকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে রোগী, স্বজন ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা এবং আশপাশের সড়কে যানজট তৈরির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চকবাজার ও মেডিকেল এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ সড়কে হাসপাতালকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ থাকায় পার্কিং ব্যবস্থাপনা রোগীসেবারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের দ্রুত প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আচরণ ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের আচরণ নিয়েও বিভিন্ন সময় অসন্তোষের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোগী বা স্বজনের লিখিত অভিযোগ, চিকিৎসার কাগজপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মীর বক্তব্য ছাড়া কোনো অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ, চিকিৎসার প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো, বিল ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে স্বচ্ছতা এবং অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা—এসবই একটি হাসপাতালের সেবার মানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুরোনো ঘটনার পর কতটা বদলেছে ব্যবস্থাপনা
২০১৮ থেকে ২০২২—চার বছরের ব্যবধানে হাসপাতালটিকে ঘিরে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান সংবাদে এসেছে। এখন ২০২৬ সালে এসে এসব ঘটনায় চিহ্নিত ঘাটতিগুলো কতটা সংশোধন করা হয়েছে, বর্তমান অপারেশন থিয়েটার ও রোগীসেবা ব্যবস্থার অবস্থা কী এবং পার্কিং ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এসব বিষয় সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বর্তমান বক্তব্যও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো অভিযোগগুলোর পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বর্তমানে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ কীভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং পার্কিং ও জরুরি রোগী ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বারবার বিষয়টি এড়িয়ে যান ও যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সরাসরি গেলেও তাদেরকে কোনভাবেই পাওয়া যায়নি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর