প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৪, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ৪, ২০২৬
নির্মাণকাজে মান নিয়ে প্রশ্ন, দায় নিতে নারাজ ঠিকাদারেরা
নোমান কলেজ রোডের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার নোমান কলেজ রোডে সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে যথাযথ তদারকি নেই। এ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে নোমান কলেজ রোডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলছে। রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ভাঙা কংক্রিট, ইটের খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। কোথাও কোথাও এসব উপকরণ খোলা জায়গায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত এসব সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সড়কটি বেশিদিন টেকসই হবে না। অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবারও সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেবে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে ভোগান্তিতে পড়বেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা।
নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অভিযোগ ও নির্মাণসামগ্রীর মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে নির্মাণকাজের মান, ব্যবহৃত উপকরণ কিংবা অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারেরা নিজেরা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়ক নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তাই কাজের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। নির্মাণকাজে কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রকৌশলগত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না এবং কাজটি যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি কাজের বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর