প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
টিবি হাসপাতাল হচ্ছে জাতীয় ইনস্টিটিউট, ৫০০ শয্যার নতুন ভবন—নজর এখন বাস্তবায়নে
২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল বদলে হবে জাতীয় ইনস্টিটিউট, সামনে বড় প্রশ্ন জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু নাম বা কাঠামোর পরিবর্তন নয়—যক্ষ্মা চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন রূপ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ববি হাজ্জাজ।
তবে নতুন ইনস্টিটিউটের ঘোষণা সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান হাসপাতালের জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সক্ষমতা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা এবং সেবার মান কতটা উন্নত হবে—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। কারণ, হাসপাতালটির চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই।
সোমবার ঢাকার শ্যামলীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন।
শুধু রূপান্তর নয়, সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, হাসপাতালটিকে আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়াতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ বিদ্যমান ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি রোগীকে সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বড় বাধা জনবল সংকট
তবে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবল।
হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেবার মানোন্নয়ন ও কার্যক্রম গতিশীল করতে জনবল সংকট দূর করা জরুরি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে শূন্যপদ পূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এখানেই প্রশ্ন—নতুন ইনস্টিটিউটের বাড়তি দায়িত্ব সামলানোর মতো প্রয়োজনীয় জনবল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, গবেষক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী কি একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হবে?
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পদসংখ্যা বা নিয়োগের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
রোগীদের ভোগান্তি কমানোতেও জোর
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন তিনি।
পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিটি রোগীর সঙ্গে মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। রোগীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ
হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এর সামনের পরিবেশ নিয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন নজর বাস্তবায়নে
টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তরের উদ্যোগকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ঘোষণাকে কার্যকর সেবায় রূপ দিতে হলে জনবল নিয়োগ, নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা, গবেষণা সক্ষমতা এবং রোগীবান্ধব ব্যবস্থাপনা—সবগুলো ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।
ফলে এখন মূল নজর থাকবে ঘোষিত উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নের সময়সীমা, অর্থায়ন, জনবল নিয়োগ এবং ৫০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের অগ্রগতির দিকে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও উপপরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিক, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর