প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ২, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২, ২০২৬
জুয়েলের পক্ষে রাজনীতি না করায় হুমকি, পরে খুন হন যুবদলকর্মী জীবন
জুয়েলের পক্ষে রাজনীতি না করায় হুমকি, পরে খুন হন যুবদলকর্মী জীবন
স্বাধীন খবর | নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় যুবদলকর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ মামলার আরেক আসামি মো. আরমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার ঠাকুরপাড়া এলাকা থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাবের একটি দল।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সঙ্গে র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের যৌথ দল আরমানকে এবং র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সঙ্গে র্যাব-১ ঢাকার যৌথ দল জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে।
রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
মামলার এজাহার ও র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত আবু ইউসুফের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম গোলাম নবী। তিনি পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বসবাস করতেন। শেরশাহ এলাকার একটি আইসক্রিম কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার তিন থেকে চার মাস আগে জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত হন জীবন। পরে রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম, দুই দিন পর মৃত্যু
মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় জীবনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় জুয়েলসহ অন্য আসামিরা লাঠি ও ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গুরুতর জখম হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলায় ১৫ জনের নাম, অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন
এ ঘটনায় জীবনের মা বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রথমে মামলাটিতে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও জখমের অভিযোগে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। পরে জীবনের মৃত্যুর পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।
এদিকে জুয়েল ও আরমানকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়েও র্যাবের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর