প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৭, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৭, ২০২৬
চিকিৎসার বকেয়া ১৯ লাখ টাকা, মৃত্যুর পরও মিজানের মরদেহ নিয়ে অনিশ্চয়তা
চিকিৎসার বকেয়া ১৯ লাখ টাকা, মৃত্যুর পরও মিজানের মরদেহ নিয়ে অনিশ্চয়তা
স্বাধীন খবর রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
দীর্ঘ নয় মাস ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মো. মিজানুর রহমান (৩৫)। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ভোর পাঁচটার দিকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর চিকিৎসার বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় কয়েক ঘণ্টা তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। এতে মিজানের দাফন-কাফন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
মিজানের ভাই মো. এনাম বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মিজান। চিকিৎসকের অধীনে কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ করার পর চতুর্থ সাইকেলের চিকিৎসা চলছিল তাঁর।
এনামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার সময় হাসপাতালের মোট বিল দাঁড়ায় ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৭ টাকা। এর মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি রয়েছে ১৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৭ টাকা।
পরিবারের অভিযোগ, বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় মিজানের মৃত্যুর পর প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। এতে স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও অসহায়ত্ব তৈরি হয়। পরে বিভিন্ন মহলের চাপের পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
স্বজনেরা জানান, মিজানের চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুর পরও বকেয়া বিলের কারণে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়াকে তাঁরা অমানবিক বলে মনে করছেন।
পরে হাসপাতাল থেকে মরদহ এনে রাত ১১ টায় দাফন কাফন সম্পন্ন করা হয়।
মিজানুর রহমান রাঙ্গুনিয়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হোসেনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র সন্তান রেখে গেছেন।
এ বিষয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর