প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
চলন্ত ট্রাক থেকে স্ক্র্যাপ লোহা চুরি, চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ নজরদারি
চোরাই স্ক্র্যাপ লোহার পুরো নেটওয়ার্কে নজরদারি
চোর, পরিবহনকারী, মজুদকারী ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা; ঝুঁকিপূর্ণ রুটে বিশেষ অভিযান
স্বাধীন খবর চট্টগ্রাম, ২৩ সেপ্টেম্বর:
চট্টগ্রামের শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে স্ক্র্যাপ লোহা চুরি, পরিবহন, মজুদ ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা পুলিশ।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।
সভায় ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, সোনাইছড়ি, বিজয় সরণি, কুমিরা, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ এলাকায় চলন্ত ট্রাক থেকে সংঘবদ্ধভাবে স্ক্র্যাপ লোহা চুরির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, চোরাই লোহা চুরি বা পরিবহনের পাশাপাশি মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এ ধরনের চক্রকে সহযোগিতার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ উৎস ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া লোহা কেনাবেচা বা মজুদ করলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে আগের চুরি ও চোরাই মালসংক্রান্ত মামলা পর্যালোচনা করে পেশাদার চোর, সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা, সহযোগী, দালাল, পরিবহনকারী ও চোরাই মাল ক্রেতাদের তথ্য হালনাগাদ করা হবে।
চুরি প্রবণ এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হবে।
এ ছাড়া ভাঙারি ও স্ক্র্যাপ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে তাদের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টার এবং লোহা সংগ্রহের বৈধ উৎস যাচাই করা হবে। চোরাই মাল কেনাবেচার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চোরাই লোহা চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান ও টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, শুধু চোর নয়—চোরাই মাল পরিবহন, মজুদ ও কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত পুরো নেটওয়ার্ককে নজরদারির আওতায় আনা হবে।
সভায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লোহা পরিবহনের সময় ট্রাকের নম্বর, চালক, গন্তব্য ও চালানের তথ্য সংরক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং, মালামালে সিল বা লকিং ব্যবস্থা এবং কারখানার প্রবেশ ও বহির্গমন পথে সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুরি প্রবণ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোনো ব্যক্তি চুরি বা চোরাই লোহা পাচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা চুরির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভায় জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানার কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ইস্পাত ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর