প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে ‘ঘুষের রাজত্ব’! তৌহিদুলকে ঘিরে পাহাড়সম অভিযোগ
চট্টগ্রাম বিআরটিএতে ‘ঘুষের রাজত্ব’! তৌহিদুলকে ঘিরে পাহাড়সম অভিযোগ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম বিআরটিএর হালিশহর কার্যালয়ে ঘুষ, অনিয়ম ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিআরটিএর উপপরিচালক (প্রকৌশল) তৌহিদুল হোসেনের দিকে। তাঁর বিরুদ্ধে ফাইল আটকে অর্থ আদায়, ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার এবং যানবাহন প্রতিস্থাপন ও নিবন্ধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ, মালিকানা পরিবর্তন, নতুন নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। নিয়ম মেনে আবেদন করলেও ফাইল পড়ে থাকে দিনের পর দিন। কিন্তু দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়—এমন অভিযোগ রয়েছে।
ফোর-স্ট্রোক প্রতিস্থাপনে বড় অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ফোর-স্ট্রোক অটোরিকশা প্রতিস্থাপন কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরোনো গাড়ি স্ক্র্যাপিংয়ের নামে গাড়িপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং নতুন গাড়ির নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ছয় বছরে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের কারণে এই খাতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযোগের পরিমাণ ও আর্থিক হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই সময়ের প্রতিস্থাপিত গাড়ির তালিকা, স্ক্র্যাপিংয়ের কাগজপত্র, ধ্বংসের প্রমাণ, নতুন নিবন্ধন নথি এবং অনুমোদন ফাইল পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
বদলি হয়েও আবার চট্টগ্রামে
অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের নানা অভিযোগের মধ্যে তৌহিদুল হোসেনকে একপর্যায়ে ময়মনসিংহে বদলি করা হয়। পরে তিনি আবার হালিশহর বিআরটিএতে দায়িত্ব পান। কী প্রক্রিয়ায় এবং কোন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তিনি পুনরায় একই কার্যালয়ে ফিরেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তৌহিদুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, নথি জালিয়াতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি আদালত বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তৌহিদুল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরিবহন মালিক ও সেবাপ্রার্থীরা অভিযোগগুলো তদন্তে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর