প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ২, ২০২৬ || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২, ২০২৬
কমিটির সুপারিশ ছাড়াই ১৭৪ ভবনের নকশা অনুমোদন, সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
কমিটির সুপারিশ ছাড়াই ১৭৪ ভবনের নকশা অনুমোদন, সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
স্বাধীন খবর নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র এস এম তোফাইল বিন হোছাইনের বিরুদ্ধে ১৭৪টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত নকশা অনুমোদন কমিটির সুপারিশ ছাড়াই তিনি একক ক্ষমতাবলে এসব নকশার অনুমোদন দেন।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বাঁশখালী পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন এস এম তোফাইল বিন হোছাইন। এ সময়ে পৌরসভায় মোট ২৬৭টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৮৯টির অনুমোদন দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কমিটির সভায়। বাকি ১৭৪টির অনুমোদন দেওয়া হয় কমিটির সুপারিশ ছাড়াই।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিন মাস অন্তর সভার নির্দেশনা থাকলেও হয়েছে দুটি
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও বাঁশখালী পৌরসভার নথিপত্রের বরাতে এজাহারে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা ২০১৭ সালের ২২ জুন ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন এবং ভবনের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে।
পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, পৌরসভার মেয়রকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি ‘ইমারত/স্থাপনার নকশা অনুমোদন কমিটি’ গঠন করার কথা। কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাসে কমিটির অন্তত একটি সভা হওয়ার কথা ছিল।
তবে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এস এম তোফাইল বিন হোছাইন মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে নকশা অনুমোদনের জন্য কমিটির সভা হয়েছে মাত্র দুটি। সভা দুটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ও ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। এসব সভায় মোট ৮৯টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন করা হয়।
অন্যদিকে, একই সময়ে অনুমোদন পাওয়া বাকি ১৭৪টি নকশার ক্ষেত্রে কমিটির সুপারিশ নেওয়া হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২০ সালে অভিযোগ, অনুসন্ধান শুরু দুদকের
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালী পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য নথিভুক্ত করা হয়।
পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান করে ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ একটি আংশিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে সেলিমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করার সুপারিশের পাশাপাশি এস এম তোফাইল বিন হোছাইনের বিরুদ্ধে নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগটি অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হয়।
২০২৪ সালের ২০ মে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আরও তিনটি অভিযোগ যুক্ত করে অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এরপর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন অভিযোগটি অনুসন্ধান করে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর এস এম তোফাইল বিন হোছাইনের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশসহ আংশিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ থেকে এজাহার দায়েরের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহকে। তাঁর দায়ের করা এজাহারে সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে ১৭৪টি নকশা অনুমোদনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা
দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশ ছাড়া একক ক্ষমতাবলে ১৭৪টি ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদনের মাধ্যমে আসামি নিজে লাভবান হয়েছেন বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এস এম তোফাইল বিন হোছাইনের বক্তব্য এজাহারে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্যও জানা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী বলা যাবে না।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রকাশের আগে এজাহারের মামলা দায়েরের তারিখ ও নম্বর, কমিশনের অনুমোদনপত্রের স্মারক নম্বর এবং অভিযুক্তের নামের বানান মূল নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন। সরবরাহ করা নথিতে কমিশনের অনুমোদনপত্রের স্মারক নম্বরে অসংগতি রয়েছে।
পাশাপাশি, মামলা দায়েরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার নথি বা দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া উচিত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, স্বাধীন খবর